
বাসাইলসংবাদ: শুক্রবার, ০১ মার্চ, ২০১৯:

নিউজ ডেস্ক : কমিউনিটি পুলিশিং হচ্ছে অপরাধ সমস্যা সমাধানে পুলিশ ও জনগণের যৌথ অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠার একটি নতুন পুলিশিং দর্শন। জনগণের অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কার্যকরভাবে অপরাধ প্রতিরোধের জন্য কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। যে ব্যবস্থা আজ দেশের অপরাধ ও বিশৃঙ্খলা রোধে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখছে বলেই মনে করছেন অপরাধ বিজ্ঞানীরা।
এ বিষয়ে একজন অপরাধ বিজ্ঞানী বলেন, পুলিশ ও জনগণের মধ্যকার দূরত্ব কমানোর পাশাপাশি পুলিশের বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণযোগ্য করে তুলতে কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা বেশ কাজে দিচ্ছে। বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জনগণ এবং পুলিশের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল হিসেবে কমিউনিটি পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে গত এক বছরে ৯৮ হাজার ২০৯ জন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় বিশেষ ভূমিকা রাখছে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম।
এদিকে সালিশের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে বেশিরভাগ বিরোধ নিষ্পত্তি করা গেলে সমাজে অস্থিরতা কমবে ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও উন্নয়ন হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা।
এ প্রসঙ্গে এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সারাদেশে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের কার্যক্রম তদারকি করা হয় পুলিশ সদর দফতর থেকে। ওপেন হাউজ ডে’র মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যাগুলো নিয়ে মতবিনিময় সভা, গণসচেতনতামূলক কার্যক্রম, অপরাধবিরোধী সভা, দৃশ্যমান পেট্রোল ইত্যাদির মাধ্যমে অপরাধের সংখ্যা অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
পুলিশ সদর দফতরের সূত্র জানায়, কমিউনিটি পুলিশিংয়ের চলমান কার্যক্রমকে বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে ২০১৮ সালে সারাদেশে ৬০ হাজার ৯১৮টি কমিটি গঠন করা হয়। এসব কমিটিতে সদস্য রয়েছেন ১১ লাখ ১৩ হাজার ৩২৮ জন। কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম পুরোদমে চালু করা হয় ২০১৪ সালে। ওই বছরের জুলাই থেকে ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয় ৮২ হাজার ৯৮১টি।
তথ্যসূত্র বলছে, ২০১৪ সালে পুলিশ সদর দফতরের অর্গানোগ্রামে ডিআইজির (অপারেশন্স) অধীনে একজন এআইজির তত্ত্বাবধানে পাবলিক সেইফটি অ্যান্ড ক্রাইম প্রিভেনশন (পিএস অ্যান্ড সিপি) শাখার কার্যক্রম শুরু হয়। যা বর্তমানে কমিউনিটি পুলিশিং নামে পরিচিত। বর্তমানে দেশের সকল জেলায় কমিউনিটি পুলিশিং সেল রয়েছে এবং প্রতিটি থানায় কমিউনিটি পুলিশিং অফিসার রয়েছে। দেশের প্রতিটি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা এবং জেলায় কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি কার্যকর রয়েছে। যেসব কমিটিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ, সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তাসহ সমাজের সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণ রয়েছে। অস্থিরতা কমাতে ও স্থিতিশীল রাখতে ২০১৮ সালে পরিবহন সেক্টরে ৭৬৮টি এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেক্টরে ২৫৩টি কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দফতরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সকল রেঞ্জ, জেলা ও মহানগর ইউনিটের আওতাধীন আঞ্চলিক এবং জাতীয় মহাসড়কের উভয় পাশের শহর ও গ্রামের জনসাধারণকে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার কাজ চলছে। তাদেরকে সম্পৃক্ত করে সড়কের নিরাপত্তা বিধান করা হচ্ছে। এসব এলাকার জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে নিয়মিতভাবে পাহারাসহ নাশকতা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহের কাজ অব্যাহত রাখা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, হত্যা, ধর্ষণ, চুরি, ডাকাতিসহ ফৌজদারি অপরাধ ছাড়া আমল অযোগ্য সব ঘটনাই সামাজিকভাবে মীমাংসা করার সুযোগ রয়েছে। কমিউনিটি পুলিশ হচ্ছে পুলিশকে সহায়তার জন্য জনগণের একটি সংগঠিত শক্তি।
সূত্র-বাংলা নিউজ ব্যাংক
বাসাইলসংবাদ/একেবি




