
নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইলের বাসাইলে দলীয় কার্যালয়ে বসে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপির কমিটি গঠনের অভিযোগ উঠেছে। এমন ঘটনায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে অযোগ্য ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ায় হতাশা হয়ে পড়েছেন তারা।

নেতাকর্মীরা জানান, প্রথমে উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়নগুলোতে বিএনপি’র আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এরপর উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক কমিটি ইউনিয়ন কমিটিগুলোকে ওয়ার্ড কমিটিতে কর্মী সম্মেলন করে আহবায়ক কমিটি করার জন্য নির্দেশনা দেয়। পরে দায়িত্বশীল নেতারা ওয়ার্ড কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া প্রায় শেষ করেন। কিন্তু সম্প্রতি কাঞ্চনপুর ইউনিয়নে ভোটের মাধ্যমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হলেও ফুলকী, কাউলজানী ও বাসাইল সদর ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপি’র দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের ডেকে এনে কেন্দ্রীয় বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপি’র আহবায়ক অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করেন। এছাড়াও প্রায় প্রত্যেকটি ওয়ার্ডের কমিটিই দলীয় কার্যালয়ে করা হয়। অল্প সংখ্যক নেতাকর্মীদের ডেকে এনে এসব কমিটি করায় তৃণমূলের ত্যাগী নেতারা ফোঁসে উঠেছেন।
ফুলকী ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী খান বলেন, ‘নেতাকর্মীদের ডেকে নিয়ে ইউনিয়ন বিএনপি’র কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেখানে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করেন অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান। এছাড়াও ফুলকী ইউনিয়নে একাধিক ওয়ার্ডের কমিটিও দলীয় কার্যালয়ে ঘোষণা করা হয়। আমি ফুলকী ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক। আমাকেও দলীয় কার্যালয়ে ওই সময় ডাকা হয়নি। এটা মূলত পকেট কমিটি। এই কমিটিতে ত্যাগী নেতাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে তৃণমূলে কোন্দলের সৃষ্টি হচ্ছে।’
বাসাইল সদর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আকবর হোসেন বলেন, ‘আমি ১৯৯০ সালে রাশড়া ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলাম। বিএনপির দুঃসময়েও পাশে ছিলাম। এখনও আছি। এবার ইউনিয়ন বিএনপি’র সম্মেলনে আমি সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলাম। ভোটের মাধ্যমে সম্মেলন হলে আমি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হতাম। কিন্তু আমাদের নেতা আহমেদ আযম খান এ ইউনিয়নে সম্মেলন না করে তার পছন্দ মতো নেতাকর্মীদের উপজেলা দলীয় কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে কমিটি করেছেন। কমিটির সময় সেখানে আমাকেও রাখা হয়নি। আমরা যারা ৯০ দশকের সময় থেকে রাজনীতি করছি, তাদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে না।
কাউলজানী ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সভাপতি হাজী খলিলুর রহমান খোকা বলেন, ‘এখন পকেট কমিটি চলছে। আহমেদ আযম খান তার আশপাশের লোকজনের কথা শুনেন। এ পরিস্থিতিতে এখন বিএনপি’র অস্তীত্ব থাকছে না। বিভিন্ন কারণে আমি এখন রাজনীতি বাদ দিয়েছি।’
বাসাইল উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক এনামুল করিম অটল বলেন, ‘এ পর্যন্ত ৪টি ইউনিয়নে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। আর দুইটি ইউনিয়নের ওয়ার্ড কমিটি কমপ্লিট হয়েছে। ইউনিয়নগুলোতে পুলিশ সম্মেলন করতে দেয়নি, এজন্য উপজেলা দলীয় কার্যালয়ে কাউন্সিলরদের উপস্থিতিতে ভোটের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হয়েছে। আর ওয়ার্ড কমিটি ওয়ার্ডে করা হয়েছে। সবাইকে তো পদ দেওয়া যায় না। যারা হারে তারা এটা বলবেই। আর কোনও পকেট কমিটি করা হয়নি। কমিটিতে ত্যাগী নেতারাই স্থান পেয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, পুলিশ প্রশাসন থেকে বাধা প্রদান করছে, এজন্য বাকি দুইটি ইউনিয়নে সম্মেলন করার সময় পাচ্ছি না। উপজেলা সম্মেলনের চাপ রয়েছে। উপজেলা সম্মেলনের পর বাকি দুইটি ইউনিয়নে সম্মেলন করা হবে।’
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আনিসুর রহমান আনিস বলেন, ‘দলের নিয়মবহির্ভূত কাজ করছেন অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান। আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেবের নির্দেশনা আছে- মাঠে যেতে হবে, মাঠে গিয়ে কর্মীদের সাথে সভা করে কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে ওয়ার্ড কমিটি হবে। ওয়ার্ড কমিটির নেতৃবৃন্দরা আবার ইউনিয়ন কমিটি গঠন করবে। ইউনিয়ন কমিটির নেতৃবৃন্দরা উপজেলা কমিটি গঠন করবে। অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান তো কোনও নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছেন না। এটা পরিষ্কার, তিনি সকল নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে এসব কাজ করতেছেন। এতে করে মাঠ পর্যায়ে ক্ষোভের ও কোন্দলের সৃষ্টি হচ্ছে। আহমেদ আযম খান তার নিজ নির্বাচনি এলাকাতেই পুলিশের দোহায় দিয়ে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সম্মেলন করতে পারেনি। পরে তিনি তার পছন্দ মতো নেতাকর্মীদের ডেকে এনে উপজেলার দলীয় কার্যালয়ে কমিটি করেন।’
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু বলেন, ‘আমাদের নিয়ম অনুযায়ী- প্রত্যেকটা ইউনিয়নে সাবেক কমিটি মিলে ইউনিয়নে কর্মী সমাবেশ করবে। কর্মী সমাবেশের মধ্যে দিয়ে পুরোনো কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন করে আহবায়ক কমিটি করবে। ওই আহবায়ক কমিটি প্রতিটি ওয়ার্ডে সম্মেলনের মধ্যে দিয়ে সবাইকে নিয়ে সবার মতামতের ভিত্তিতে ওয়ার্ড কমিটিগুলো করবে। ওয়ার্ড কমিটিগুলো করার পর ইউনিয়ন সম্মেলনে ভোটের মাধ্যমে কমিটি গঠন হবে। ওনি তো (আহমেদ আযম খান) নাটক করেন। এটা কোন রিয়ার্সেল দিতেছেন তিনিই বলতে পারবেন।’
কেন্দ্রীয় বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপি’র আহবায়ক অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান বলেন, ‘পুলিশ ফুলকীতে আমাদের প্যান্ডেল ভেঙে দিয়েছে। কাউলজানীতে সেখানে করার কথা সেখানে পুলিশ করতে দেয়নি। শেষ পর্যন্ত দলীয় কার্যালয়ে করতে বাধ্য হয়েছি। ওয়ার্ডেরগুলো ওয়ার্ডেই কমিটি হয়েছে। স্বতঃস্ফূর্তভাবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কমিটি হয়েছে। এখানে কোনও পকেট কমিটি হয়নি।’
বাসাইলসংবাদ, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ / একেবি
সকলের অবগতির জন্য নিউজটি শেয়ার করুন




