
নিজস্ব প্রতিবেদক : ফুল খাতুন বেগমের স্বামী ছিলেন দিনমজুর। তার উপার্জনের টাকা দিয়ে এক মেয়েকে নিয়ে ৩জনের সংসারটি চলছিল ভালোভাবেই। এমতাবস্থায় তার একমাত্র মেয়েকে বিয়ে দেন। এরপর ২০০৩ সালে ফুল খাতুন বেগমের স্বামী মিয়া চাঁনের মৃত্যু হয়। এঘটনায় তার পরিবারে নেমে আসে হাহাকার। কোনও উপায়ান্তর না পেয়ে স্বামীর ভিটেবাড়ি মির্জাপুর উপজেলার পাথরঘাটা ছেড়ে ষাটোর্ধ্ব ওই নারী বাবার বাড়ি বাসাইল উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের কাজিরাপাড়ায় চলে আসে। ওই বাড়িতে তৈরি করেন একটি ছাপড়া ঘর। ফুল খাতুন তার বাবা-মাকেও হারিয়েছেন অনেক আগেই। দীর্ঘদিন যাবৎ ষাটোর্ধ্ব ওই নারী ভিক্ষাবৃত্তি করে কোনভাবে তার আহার জোগাচ্ছেন।

কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে সেটিও বন্ধ হয়ে গেছে। ঘরে খাবারও নেই। এমতাবস্থায় তিনি মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এখনও তিনি পায়নি কোনও সরকারি অনুদান। পায়নি কোনও বিধবা ভাতা বা বয়ষ্ক ভাতার কার্ড। এই অসহায় মানুষটি একটি বিধবা ভাতা কার্ডের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারের কাছে। তারপরও জুটেনি তার একটি ভাতার কার্ড। ফুল খাতুন বেগমের এই অসয়াত্বের খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে ‘বাসাইল সংবাদ ২৪ ডটকম’-এর সম্পাদক এনায়েত করিম বিজয় উপহার নিয়ে হাজির হন তার বাড়িতে। উপহার হিসেবে খাদ্যসামগ্রী দেখে তিনি অনেক খুশি হন।
উপহারটি তুলে দেয়া হয় ষাটোর্ধ্ব ওই নারীর হাতে। ‘বাসাইল সংবাদ ২৪ ডটকম’-এর সম্পাদক এনায়েত করিম বিজয়ের সাথে এসময় সাংবাদিক আব্দুল লতিফ উপস্থিত ছিলেন।
ফুল খাতুন বেগম আক্ষেপেরস্বরে বলেন, ‘ভিক্ষার টাকা ও চাউলে কোনরকমে বেঁচে আছি। আমি খুব কষ্টে আছি। চেয়ারম্যান-মেম্বারের কাছে একটি ভাতা কার্ডের জন্য অনেকবার গিয়েছি। কিন্তু এখনও কেউ কার্ডটি করে দেয়নি। ভাতা কার্ডটি করে দিলে আমার আর ভিক্ষা করে চলতে হতো না।’
…বাসাইলসংবাদ/ ১৭ এপ্রিল, ২০২০ /একেবি
সকলের অবগতির জন্য নিউজটি শেয়ার করুন




