
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ টাঙ্গাইলে মহানবী (সা.) ও ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে গ্রেফতারকৃত শরিয়ত বয়াতিকে ৩দিনের রিমা- শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) বিকাল ৩টার দিকে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে (মির্জাপুর) উঠালে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক আকরামুল ইসলাম।

গত শনিবার (১১ জানুয়ারি) ভোরে ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার বাশিল এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ওইদিন পুলিশ তার ১০ দিনের রিমা- চেয়ে আদালতে পাঠালে বিচারক তিনদিনের রিমা- মঞ্জুর করেন। শরিয়ত বয়াতি টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের আগধল্যা গ্রামের পবন মিয়ার ছেলে।
গত ৯ জানুয়ারি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মির্জাপুর থানায় শরিয়ত বয়াতির বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন একই উপজেলার আগধল্যা দারুসসুন্নাহ ফোরকানিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা মো. ফরিদুল ইসলাম।
শরিয়ত বয়াতিকে আদালতে উঠানো হবে-এমন খবরে আদালত চত্বরে তাকে দেখতে ভীর জমান বাউল শিল্পীরা।
আসামি পক্ষের আইনজীবি জিনিয়া বক্স বলেন, ‘মহানবী (সা.) ও ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে শরিয়ত বয়াতির বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। তিনদিনের রিমা- শেষে মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আদালতে উঠালে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিচারক আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এই মামলার জামিন শুনানির জন্য তারিখ নির্ধারণ করেছেন। আশা করছি ওইদিন তার জামিন মঞ্জুর হবে।’
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, শরিয়ত সরকার ২০১৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর ঢাকা জেলার ধামরাই থানার রোহারটেক এলাকায় পালাগানের একটি অনুষ্ঠানে মহানবী (সা.), মসজিদের ইমাম ও ইসলামের নানা বিষয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। পরে তাকে গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে ফুঁসে ওঠে স্থানীয় মুসলিম জনতা। তারা মানববন্ধন ও সমাবেশ করেন।
টাঙ্গাইল জেলা বাউল সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসিম সরকার বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, আমাদের বাউল শিল্পী শরিয়ত সরকারের গানের মঞ্চের একটি ভিডিও ভাইরাল করে এক শ্রেণী সম্প্রদায়ের লোক মামলা করে। সেই মামলায় শরিয়ত সরকারকে গ্রেফতার করে ৩দিনের রিমা-ে নেওয়া হয়। তাকে কেন রিমা-ে দিতে হবে তা আমার বোধগম্য নয়। কি তার কাছ থেকে তথ্য বের করবে, সে যা বলছে তা তো ভিডিও ভাইরাল হয়ে গেছে। আমি ভিডিওটি সম্পূর্ণ দেখেছি এই ভিডিওবার্তা আর মামলার বিবরণে কোনও মিল নেই।
তিনি আরও বলেন, ‘এই মামলায় বলা হয়েছে- আল্লাহ ও রাসুলকে নিয়ে কটুক্তি করেছে। ওই ভিডিও’র কোথাও আল্লাহ ও রাসুলকে নিয়ে তিনি কটুক্তি করেনি। আমরা যখন বাউল গান শুরু করি তখন আল্লাহ ও রাসুলের প্রতি শ্রদ্ধা-সম্মান রেখে শুরু করি। বাংলাদেশে যত আহালে বায়াত সংগঠন ও তরিকতপন্থি লোক আছে সবাই আমরা একত্রতাবোধ করে এই বাউল সংঙ্গীতকে যারা বাংলার জগত থেকে মুছে দেয়ার জন্য পায়তারা করছে আমরা তাদের প্রতিহত করি। সেই সাথে শরিয়ত সরকারের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি।’
…বাসাইলসংবাদ/১৪ জানুয়ারি/একেবি
প্রয়োজনে নিউজটি শেয়ার করুন




