
বাসাইলসংবাদ: রবিবার, ০১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯:

নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইলের সখীপুরে ১৪টি মৌজার ভূমি মালিকানা নিয়ে প্রায় দুই যুগ ধরে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে জমির মালিক ও বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে দিনব্যাপী গণশুনানি করেছেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের গঠিত একটি কমিটি। রবিবার (১ সেপ্টেম্বর) সখীপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (আইন) আনিস মাহমুদের নেতৃত্বে ভুক্তভোগীদের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত শুনানি গ্রহণকালে স্থানীয় এমপি অ্যাডভোকেট জোয়াহেররুল ইসলাম, সাবেক এমপি অনুপম শাহজাহান জয়, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জুলফিকার হায়দার কামাল, পৌর মেয়র আবু হানিফ আজাদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কুতুব উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক শওকত শিকদারসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, উপজেলার ১৪টি মৌজার ভূমি মালিকদের নামে ১৯৫৬-৬২ সালে এসএ রেকর্ড হয়। ওই রেকর্ডের ওপর ভিত্তি করে নামজারি ও খাজনা আদায় হয়েছে। জমির রেজিস্ট্রি দলিলও হয়েছে। এরপর এসএ রেকর্ড অনুসরণ করে ১৯৭৬-৮৫ সালে আরএস রেকর্ড সম্পন্ন হওয়ার পর ভূমি মালিকরা নকশা ও পরচা হাতে পান। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ ধরে বন বিভাগের আপত্তির কারণে সখীপুর উপজেলার ১৪টি মৌজার ভোগদখলীয় ভূমি মালিকরা তাদের ভূমির নামজারি করতে ও খাজনা দিতে পারছেন না। ফলে একদিকে সরকার কোটি কোটির রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অন্যদিকে হাজার হাজার ভূমি মালিক তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জমি বেচা-কেনা করতে হচ্ছে। এ নিয়ে ভূমি মালিকরা ভূমি অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করে বছরের পর বছর দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সভা-সমাবেশ, মিছিল-মিটিং, হরতাল-অবরোধ ও গণঅনশনসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে।
ভূমি অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক বলেন, ‘উপজেলার ১৪টি মৌজায় এসএ রেকর্ড অনুসরণ করে আরএস রেকর্ড সম্পন্ন হওয়ার পর ভূমি মালিকরা নকশা ও পরচা হাতে পেলেও বন বিভাগের অহেতুক আপত্তির কারণে নামজারি ও খাজনা আদায় বন্ধ রয়েছে। এতে ভূমি মালিকরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত রয়েছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুর রহমান বলেন, ‘১৪টি মৌজার ভূমি মালিকানা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি ভুক্তভোগীদের শুনানি গ্রহণ ও সরেজমিন পরিদর্শন করতে এসেছেন। আশা করছি খুব দ্রুতই বিষয়টি সমাধান হবে।’
বাসাইলসংবাদ/একেবি




