
বাসাইলসংবাদ: শনিবার, ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯:

নিজস্ব প্রতিবেদক, সখীপুর ॥ টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার চারটি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি। গত বৃহস্পতিবার সমিতির সভাপতির সাক্ষরিত ওই নোটিশ কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও সমিতির গঠনতন্ত্র পরিপন্থী বিবিধ কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ২৯ আগস্টের সাধারণ সভায় অভিযুক্ত চার প্রধান শিক্ষককে নোটিশ দেওয়ার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সমিতির নোটিশ পাওয়া চার প্রধান শিক্ষক হচ্ছেন- সখীপুর পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কাইউম হোসাইন, নাকশালা জমির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শহীদুল ইসলাম, গজারিয়া শান্তিকুঞ্জ একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মতিউর রহমান ভূইয়া ও কালিয়ান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুস সামাদ।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ৩১ জুলাই সমিতির তিন বছর মেয়াদে নির্বাচিত কার্যকরী কমিটির মেয়াদ শেষ হয়। কার্যকরী কমিটির মেয়াদ আরও ছয়মাস বাড়ানোর জন্য গত ২৯ আগস্ট সভা আহ্বান করা হয়। ওই সভার আগের দিন ২৮ আগস্ট ওই চার প্রধান শিক্ষক ও তাঁদের অনুসারীরা সমিতির সাধারণ সম্পাদক একেএম সাইফুল্লাহর বাসায় যায়। কমিটির মেয়াদ যাতে বাড়ানো না হয় এরজন্য তাঁকে চাপ দেন। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল্লাহকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে অভিযোগ পাওয়া যায়।
২৯ আগস্টের সভায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক লাঞ্ছিত হওয়ার বিষয়টি উত্থাপন করলে ওই চার প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে সমিতির ওই সভায় ওই চার প্রধান শিক্ষক অনুপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি শহীদুল ইসলাম ওই চার প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, তাঁরা সমিতির বিরুদ্ধে সব সময় ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও সমিতি পরিপন্থী বিবিধ কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁদেরকে এ নোটিশ দিয়ে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।
সখীপুর পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কাইউম হোসাইন নোটিশ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ওই কমিটির মেয়াদ এক মাস আগেই শেষ হয়ে গেছে। বিধি মোতাবেক কমিটি অবৈধ। অবৈধ কমিটি কাউকে নোটিশ দিতে পারে না। কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় আমরা সমিতির নির্বাচন চাই। গত ২৮ আগস্ট সাধারণ সম্পাদকের বাসায় গিয়ে গঠনতন্ত্র বিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ার জন্য অনুরোধ করি। তিনি আমাদের অনুরোধ না মানায় আমরা ভদ্রভাবে ওই বাড়ি থেকে চলে আসি। তাঁকে লাঞ্ছিত করার কোনো প্রশ্নই আসে না।
গজারিয়া শান্তিকুঞ্জ একাডেমী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মতিউর রহমান ভূইয়া বলেন, গত ২৯ আগস্টের সভায় অসৎ উদ্দেশে কমিটির মেয়াদ আরও ছয়মাস বাড়ানো হয়েছে, যা সংবিধান বিরোধী। এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই চার প্রধান শিক্ষকসহ ওই সমিতিতে তাঁদের অনুসারি শিক্ষকদের মাঝে চাপা ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারাও এ বিষয়ে তাঁদের অনুসারি শিক্ষকদের নিয়ে দফায় দফায় বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন বলে জানা গেছে। সমিতিতে সাত শতাধিক শিক্ষক রয়েছেন।
বাসাইলসংবাদ/একেবি




