
নিজস্ব প্রতিবেদক, সখীপুর ॥ টাঙ্গাইলের সখীপুরে কিশোর গ্যাং, মাদক, ইভটিজিং, বাল্যবিয়ে ও সামাজিক অবক্ষয় রোধ কল্পে এক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার কচুয়া গ্রামবাসীর উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ নানা পেশা শ্রেণির লোকজন উপস্থিত ছিলেন। কচুয়া বাজারে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন আলহাজ্ব বীরমুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান হাবীবুর রহমান।

পরামর্শ সভায় অন্যান্যের মধ্যে আলহাজ্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হালিম মাষ্টার, আলহাজ্ব আমিনুল ইসলাম মাষ্টার, অধ্যাপক তোজাম্মেল হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান দুলাল, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহাদৎ হোসেন শাহজাহান, কালিয়া ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক মনি, কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ফজলুর রহমান, ওয়ার্ড কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সাধারণ সম্পাদক শাহআলম শিকদার সাজে প্রমুখ বক্তব্য দেন।
এছাড়াও উম্মুক্ত আলোচনায় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তাদের পরামর্শমূলক বক্তব্য তুলে ধরেন। সভায় সামাজিক অবক্ষয় রোধ কল্পে বক্তব্য দেন বক্তারা। তাঁরা বলেন, এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি গ্রামবাসীরও। এজন্য সখীপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় থাকা কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িতদের ওপর বিশেষ নজরদারি চালানো দরকার। বিশেষ করে যেসব কিশোর গ্যাং ইতিমধ্যে নানা ধরনের অপরাধ কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা প্রযোজন। কিশোর গ্যাং লিডারদের ব্যাপারে সচেতন ব্যক্তিরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে ওই সভায় উপস্থিত সকলকে জানানো হয়।
বক্তারা আরও বলেন, কিশোর গ্যাং, মাদক, ইভটিজিং, বাল্যবিয়ে ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে সকলে মিলে কাজ করতে হবে। তাঁরা বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে মাদকের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাচ্ছে- যা খুবই উদ্বেগজনক। কিশোর গ্যাং যখন মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে তখনই সেখানে নানা অপকর্মের কথা চলে আসে।
এর সঙ্গে হত্যা এবং ধর্ষণের মতো বিবেকহীন কাজও ঘটে। জঘন্য অপরাধ কর্মকান্ডের সবকিছুইতে জড়িয়ে যায়। এজন্য অভিভাবকদের সক্রিয় এবং সচেতন হয়ে সন্তানদের খোঁজখবর রাখার আহ্বান জানান তারা। সন্তানরা সন্ধ্যার পর কোথায় থাকছে, স্কুলের নামে অন্য কোথাও যাচ্ছে কিনা তা খেয়াল রাখতে হবে। সন্তানদের প্রতি যথাযথ খেয়াল না করার ফলে তারা যদি বিপথগামী হয় তবে অভিভাবকদেরও দায়ভার নিতে হবে বলেও ওই পরামর্শ সভায় বলা হয়। কিশোর অপরাধসহ মাদক, ইভটিজিং, বাল্যবিয়ে ও সামাজিক অবক্ষয় রোধ কল্পে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সকলের কাজ করতে হবে।




