
এনায়েত করিম বিজয় : টাঙ্গাইলের বাসাইলে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১৯৬১ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯৩৭ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। আর উত্তীর্ণ হয়েছে ১০২৪জন শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে ৪০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। শনিবার (১০ জুলাই) প্রকাশিত ফলাফলে এতথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, উপজেলার ২৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১৬০৭ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এদের মধ্যে ৮০৯জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। আর ফেল করেছে ৭৯৮জন শিক্ষার্থী। ১০টি বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৭জন শিক্ষার্থী। শতকরা পাসের হার ৫০.৩৪। আর সমমানের (দাখিল) পরীক্ষায় ৩৫৪ জনের মধ্যে ২১৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। আর ফেল করেছে ১৩৯ শিক্ষার্থী। জিপিও-৫ পেয়েছে ৩জন শিক্ষার্থী। শতকরা পাসের হার ৬০.৭৩।
এদিকে, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ভোকেশনাল পরীক্ষায় ৩টি বিদ্যালয় থেকে ১০৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৯৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। আর ফেল করেছে ৮জন শিক্ষার্থী। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২১জন শিক্ষার্থী।
ফলাফল খারাপ হওয়ায় বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সমালোচনার মুখে পড়েছেন। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সমালোচনার ঝড় বইছে। সচেতন মহলের ধারণা- মোবাইল আসক্তি ও বিদ্যালয়ে উপস্থিতি কমে যাওয়াসহ কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়াও কিছু কিছু শিক্ষকদের শ্রেণি কক্ষে পাঠদানে অমনোযোগীতা এবং অভিভাবকদের অসচেতনতাও রয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী বাসাইল গোবিন্দ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৫৫জনের মধ্যে ৪৪জন উত্তীর্ণ হয়েছে। আর ফেল করেছে ১১জন। এ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫জন। বাসাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৫০জনের মধ্যে ১০০জন উত্তীর্ণ হয়েছে। আর ফেল করেছে ৫০জন। এ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯জন। হাজী মালিক মাজেদা খাতুন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৯৩ জনের মধ্যে ১১জন উত্তীর্ণ হয়েছে। আর ফেল করেছে ৮২জন। মিরিকপুর গঙ্গাচরণ তপশিলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৬৬জনের মধ্যে ২৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। আর ফেল করেছে ৩৭জন। পূর্ব পৌলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১০১ জনের ২৪জন উত্তীর্ণ হয়েছে। আর ফেল করেছে ৭৭জন। কাঞ্চনপুর কে জি আর কে উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৬৭জনের মধ্যে ৩২জন উত্তীর্ণ হয়েছে। আর ফেল করেছে ৩৫জন। এ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১জন। সিংগার ডাক আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৮৭জনের মধ্যে ৬৩জন উত্তীর্ণ হয়েছে। আর ফেল করেছে ২৪জন। পাটখাগুরি বিলকিছ মান্নান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩১জনের মধ্যে ২১জন উত্তীর্ণ হয়েছে। আর ফেল করেছে ১০জন। এ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১জন। লৌহজংগ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪৯ জনের মধ্যে ৩৩জন উত্তীর্ণ হয়েছে। আর ফেল করেছে ১৬জন। হাবলা টেংগুরিয়া পাড়া আব্দুল্লাহেল বাকী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৯৩জনের মধ্যে ৫২ উত্তীর্ণ হয়েছে। আর ফেল করেছে ৪১জন। এ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২জন। কেবিএন বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪৮জনের মধ্যে ১৯জন উত্তীর্ণ হয়েছে। আর ফেল করেছে ২৯জন। এ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২জন। বাঘিল ফুলবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২৭জনের মধ্যে ৪জন উত্তীর্ণ হয়েছে। আর ফেল করেছে ২৩জন। বাথুলীসাদী লাইলী বেগম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৪৫ জনের মধ্যে ৫৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। আর ফেল করেছে ৮৬ জন। দেউলী খন্দকার নুর আলম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪১জনের মধ্যে ১৭জন উত্তীর্ণ হয়েছে। আর ফেল করেছে ২৪জন। মার্থা লিন্ডষ্ট্রম নুরজাহান বেগম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২৪জনের মধ্যে ১৮জন উত্তীর্ণ হয়েছে। আর ফেল করেছে ৬জন। এ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪জন। ময়থা জনতা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১০০ জনের মধ্যে ৫৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। আর ফেল করেছে ৪৭ জন। এ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩জন। আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৮৭ জনের মধ্যে ৬৩জন উত্তীর্ণ হয়েছে। আর ফেল করেছে ২৪ জন। এ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯জন। জশিহাটী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৫০জনের মধ্যে ৩৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। আর ফেল করেছে ১৫জন। তিরঞ্চ ঝনঝনিয়া ফুলকী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪৬জনের মধ্যে ৩৬জন উত্তীর্ণ হয়েছে। আর ফেল করেছে ১০জন। এ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১জন। বালিয়া নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২৮জনের মধ্যে ৩জন উত্তীর্ণ হয়েছে। আর ফেল করেছে ২৫জন। ডুমনীবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩৪জনের মধ্যে ৮জন উত্তীর্ণ হয়েছে। আর ফেল করেছে ২৬জন। কাউলজানী লুৎফা শান্তা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩৬জনের মধ্যে ২৩জন উত্তীর্ণ হয়েছে। আর ফেল করেছে ১৩জন। সুন্না আব্বাছিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৫৪জনের মধ্যে ২১জন উত্তীর্ণ হয়েছে। আর ফেল করেছে ৩৩জন। কাউলজানী নওশেরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৮২জনের মধ্যে ৩৬জন উত্তীর্ণ হয়েছে। আর ফেল করেছে ৪৬জন। জায়েদা খানম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৩জনের মধ্যে ৫জন উত্তীর্ণ হয়েছে। আর ফেল করেছে ৮জন।
এদিকে, সুন্না সম্মিলিত আলীম মাদরাসা থেকে ৪৫ জনের মধ্যে ২৯জন উত্তীর্ণ হয়েছে। আর ফেল করেছে ১৬জন। মুজিব হাবিব ইসলামীয়া দাখিল মাদরাসা থেকে ৪৮ জনের মধ্যে ২২জন উত্তীর্ণ হয়েছে। আর ফেল করেছে ২৬জন। বালিনা খোরশেদ ফজিলাতুন দাখিল মাদরাসা থেকে ৩৩জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২১জন। আর ফেল করেছে ১২জন। কাঞ্চনপুর এলাহিয়া (বি.এ) ফাজিল মাদরাসা থেকে ৩৫জনের মধ্যে ২৬জন উত্তীর্ণ হয়েছে। আর ফেল করেছে ৯জন। এ মাদরাসা থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১জন। মাওঃ আকরাম আলী দাখিল মাদরাসা থেকে ২৬জনের মধ্যে ১৪ উত্তীর্ণ হয়েছে। আর ফেল করেছে ১২জন। কাঞ্চনপুর বালিকা দাখিল মাদরাসা থেকে ২৫জনের মধ্যে ২০ উত্তীর্ণ হয়েছে। আর ফেল করেছে ৫জন। হাবলা ছালাফিয়া বালিকা মাদরাসা থেকে ২৭জনের মধ্যে ১৩জন উত্তীর্ণ হয়েছে। আর ফেল করেছে ১৪জন। হাবলা টেংগুরিয়া পাড়া ফাজিল মাদরাসা থেকে ৪২জনের মধ্যে ৩৩জন উত্তীর্ণ হয়েছে। আর ফেল করেছে ৯জন। এ মাদরাসা থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২জন। আ. খালেক আ. কাদের দাঃ উঃ দাখিল মাদরাসা থেকে ২১জনের মধ্যে ৭জন উত্তীর্ণ হয়েছে। আর ফেল করেছে ১৪জন। ফুলকী ঝনঝনিয়া সিনিয়র মাদরাসা থেকে ২৩জনের মধ্যে ১১জন উত্তীর্ণ হয়েছে। আর ফেল করেছে ১২জন। যশিহাটী ইসলামীয়া দাখিল মাদরাসা থেকে ২৯জনের মধ্যে ১৯জন উত্তীর্ণ হয়েছে। আর ফেল করেছে ১০জন।
অপরদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ভোকেশনাল পরীক্ষায় বাসাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৫০জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৪৫জন। আর ফেল করেছে ৫জন। এ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ- ৫ পেয়েছে ১৬জন। সিংগার ডাক আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪৩জনের মধ্যে ৪১ উত্তীর্ণ হয়েছে। আর ফেল করেছে ২জন। এ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫জন। বাথুলীসাদী লাইলী বেগম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১০জনের মধ্যে ৯জন উত্তীর্ণ হয়েছে। আর ফেল করেছে ১জন।
এ বিষয়ে বাসাইল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান খান বলেন, ‘ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ চিহ্নিতকরণ, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সাথে বৈঠক করা হবে। বিগত সময়ে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে সময় ব্যয় করেছে। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ অনলাইন ব্যবহারে ঝুঁকে পড়ছে অনেক শিক্ষার্থীরা। বিষয়গুলো নিয়ে শিক্ষকদের সাথে দ্রুতই বসা হবে।’
বাসাইলসংবাদ, ১২ জুলাই, ২০২৫ /একেবি
সকলের অবগতির জন্য নিউজটি শেয়ার করুন






