
বাসাইলসংবাদ: সোমবার, ১১ মার্চ, ২০১৯:

নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইলের বাসাইলে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের মধ্যেদিয়ে উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চলছে প্রকাশ্য গ্রুপিং। এ উপজেলায় নৌকা মনোনীত প্রার্থীর গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদ্রোহী প্রার্থী। এ উপজেলায় নৌকার টিকিট পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মতিয়ার রহমান গাউস। অপরদিকে নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে মাঠে নেমেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম। কাজী অলিদ ইসলাম মনোনয়ন যুদ্ধে এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত এসে তিনি মনোনয়নবঞ্চিত হন। এরপরই তিনি স্বতন্ত্রপ্রার্থী হয়ে মাঠে থাকার ঘোষনা দেন।
গত ৪ মার্চ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগ মূহুর্তে বাসাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়। এ ঘটনার পর থেকে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীরা জানান, হাজী মতিয়ার রহমান গাউসকে মনোনয়ন দেওয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের মাঝে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে। এই দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। কাজী অলিদ আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার কারণে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পড়েছে বেকায়দায়। কাজী অলিদ নাকি গাউজ-এর পক্ষে কাজ করবেন এ বিষয়টি নিয়ে বেকায়দায় আছেন নেতাকর্মীরা।
হাজী মতিয়ার রহমান গাউস মনোনয়ন প্রতিযোগিতার আগ মূহুর্তে এসে নির্বাচন করার ঘোষনা দেন। অপরদিকে কাজী অলিদ ইসলাম আগে থেকেই মাঠ ঘুছিয়ে রেখেছেন। কিন্তু শেষ পর্যায়ে এসে তিনি মনোনয়নবঞ্চিত হন। মনোনয়নবঞ্চিত হলেও জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকার কারণে নির্বাচন করছেন বলে কাজী অলিদের দাবি।
গত ২০০৯ সালে তৃতীয় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কাজী অলিদ ইসলাম চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচনে কাজী অলিদ ইসলাম বিএনপির প্রার্থী কাজী শহীদুল ইসলামের কাছে হেরে যান। কাজী অলিদ ইসলাম উপজেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের একত্র করে দলকে চাঙ্গা রেখেছেন। পুরো উপজেলায় তার রয়েছে ব্যাপক পরিচিতি।
কাজী অলিদ ইসলাম বলেন, দলের ৯৯ ভাগ নেতাকর্মীরা আমার সাথে আছেন। মূলত নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের জন্যই আমি প্রার্থী হয়েছি। কেন্দ্র যেহেতু সবার জন্য নির্বাচন উন্মুক্ত করেছে। সে কারণেই আমি নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনিই এ নির্বাচনে বিজয়ী হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিকে হাজী মতিয়ার রহমান গাউস দলের দুঃসময়েও পিছু পা হননি। দলকে শক্ত অবস্থানে রাখতে তারও ব্যাপক বেগ পোহাতে হয়েছে।
হাজী মতিয়ার রহমান গাউস বলেন, আওয়ামী লীগ আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। উপজেলার সকল আওয়ামী লীগ নেতা আমার সাথে আছেন। ইনশাআল্লাহ আমিই এ নির্বাচনে বিজয়ী হবো।
এ দুই নেতা ছাড়াও আওয়ামী লীগ নেতা ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাহমুদ হোসেন আল মাজিদী শীষ মিয়া ও উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান কাজী শহীদুল ইসলাম নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। অপরদিকে বিএনপির আরেক নেতা সৈয়দ নিজামুল ইসলাম রুপমের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষনা করা হয়েছে।
এদিকে পুুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে সাদিকুর রহমান খান শাহিন, নুরুল ইসলাম খান, শাহাদত হোসেন খান, সাইফুল ইসলাম খান মন্টু, এসএম ফজলুল হক মিয়া, সাইফুল ইসলাম শিপন সিকদার ও নাজমুল হুদা খান বাহাদুর মাঠে রয়েছেন।
অপরদিকে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে রোজিনা মফিজ খান, জবেদা বেগম, মলি আক্তার, রেখা বেগম ও শাম্মী আক্তার মুক্তি মাঠে রয়েছেন।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান প্রার্থী ছাড়াও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা চায়ের দোকান, রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজারসহ বিভিন্ন পয়েন্টে সাঁটিয়েছেন পোস্টার-ফেস্টুন। প্রার্থীরা গণসংযোগসহ ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। এ উপজেলায় চতুর্থ ধাপের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ৩১ মার্চ।
বাসাইলসংবাদ/একেবি




