
বাসাইলসংবাদ: মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৮:

নিজস্ব প্রতিবেদক:
টাঙ্গাইলের বাসাইলে এসএসসি’র নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে লৌহজংগ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরজু জমাদার ও আব্দুর রহিম নামের এক গৃহ শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে আরজু জমাদারকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে উপজেলা শিক্ষক সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদ। অনাদায়ে তার সদস্য পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অপরদিকে গৃহ শিক্ষক আব্দুর রহিমকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
সমিতির শিক্ষক নেতারা জানান, এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষা পূর্ববর্তী সমিতির সভায় সচ্ছতার সহিত পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। সমিতির এ সিদ্ধান্তের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন করে অবৈধ অর্থের লোভে ও সমিতির ভাবমূর্তী ক্ষুন্ন করার জন্য লৌহজংগ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরজু জমাদার, গৃহ শিক্ষক আব্দুর রহিমের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে পরীক্ষার নীতিমালা ভঙ্গ এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও শিক্ষক সমিতির ভাবমূর্তী চরমভাবে ক্ষুন্ন করেছে।
সমিতির নেতারা আরও জানান, আরজু জমাদার গৃহ শিক্ষক আব্দুর রহিমের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে প্রশ্ন সরবরাহ করছে। গত ১ অক্টোবর উপজেলায় একযোগে এসএসসি’র নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষা শুরু হয়। ওইদিন বাসাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজী প্রথমপত্র পরীক্ষা চলাকালীন ওই বিদ্যালয়ে প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে আসে। এরপর বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক সমিতি জরুরি বৈঠকে অভিযুক্ত আব্দুর রহিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরজু জমাদারের সম্পৃক্ততা স্বীকার করেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মীর মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আরজু জমাদার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে চরমভাবে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে। তার এ অপকর্মে সমিতি ও শিক্ষার মান ক্ষুন্ন হয়েছে। প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় গত ১৩ অক্টোবর শিক্ষক সমিতির জরুরি সভায় আরজু জমাদারকে এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে সমিতির সদস্য পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও তার সহযোগী গৃহ শিক্ষক আব্দুর রহিমকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে জরিমানার টাকা না দিলে আরজু জমাদারের সমিতির সদস্য পদ বাতিল করা হবে।’
অভিযুক্ত লৌহজংগ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরজু জমাদারের সাথে ফোনে কথা হলে তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক সমিতির সাথে মীমাংসা হয়ে গেছে। এটা আপনাগো কি? আপনি যা লেখার লেখেনগা।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বাবুল হাসান বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামছুন নাহার স্বপ্না বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিস্তারিত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এ ব্যাপারে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা খানম বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি স্পর্শকাতর। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বাসাইলসংবাদ/একে




