
বাসাইলসংবাদ: বৃহস্পতিবার , ২১ মার্চ, ২০১৯:

নিউজ ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লজ্জাজনক পরাজয়ের পর বিএনপি ভয়াবহ ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জেলে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিভিন্ন মামলায় দণ্ডিত হয়ে দেশের বাইরে। এ মুহূর্তে বিএনপিকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত দল গোছানোর কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন দলটির নেতাকর্মীরা। তবে কেন্দ্রে নেতৃত্ব নির্বাচনের পূর্বেই তৃণমূলের নেতৃত্ব ঠিক করা নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে তারেক ও ফখরুলসহ দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মাঝে।
বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে সাংগঠনিকভাবে শক্তি অর্জন করতে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে জেলা, উপজেলা, থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে দল গোছানোর কার্যক্রম শুরু করেছে। তবে দল গোছানো নিয়ে তারেকের মতামত ভিন্ন। আগে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে পরিবর্তন এনে নতুন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মাধ্যমে তৃণমূলে দল গোছানোর নির্দেশনা দিয়েছিলেন তারেক।
দলটির সিনিয়র অনেক নেতা মনে করেন, ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর দল গোছানোর যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল নানা কারণে তা সম্পূর্ণ করা যায়নি। অর্ধেকেরও বেশি সাংগঠনিক জেলায় কমিটি দেয়া হলেও তা ত্রুটিমুক্ত ছিল না। ১১টি অঙ্গসংগঠনের অবস্থাও বেহাল। ৪-৫টি সংগঠনের আংশিক নতুন কমিটি হয়েছে, কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার উপক্রম হলেও এসব কমিটির কোনোটিই পূর্ণাঙ্গ হয়নি। এর প্রভাব একাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিতেও পড়েছে বলে নেতারা বলেছেন।
বিএনপির যুগ্মমহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘নেতা নির্বাচিত হতে হবে বিএনপির তৃণমূল থেকে। ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, থানা, উপজেলা, পৌর, জেলা-মহানগরে কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচিত কমিটি হতে হবে। এরপর তারাই বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত করবেন। অঙ্গসংগঠনগুলোও একইভাবে নির্বাচিত হওয়া উচিত। কিন্তু আমরা চলছি উল্টোপথে।’
উপজেলা-থানা-ইউনিয়ন কমিটি থাকলেও এসব কমিটির কয়েকটি পদধারী ছাড়া সবাই নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছেন দীর্ঘদিন ধরে। তৃণমূল নেতাদের মনোবল অটুট রাখতে কেন্দ্র যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে দলটির তৃণমূল পর্যায় থেকে।
তৃণমূলের পাশাপাশি ছাত্রদলসহ মেয়াদোত্তীর্ণ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন ঢেলে সাজাতে চায় বিএনপি। পর্যায়ক্রমে তাদের নতুন কমিটি গঠন করা হবে। এসব কমিটি আর প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ‘সুপার ফাইভ’ বা ‘সুপার সেভেন’ নামে হবে না। কাউন্সিলের মাধ্যমে সরাসরি ভোটে নেতা নির্বাচন হবে। জানা গেছে, ছাত্রদলের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে দুই বছর আগেই। যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঝুলে আছে দীর্ঘদিন ধরে। স্বেচ্ছাসেবক দলেরও একই অবস্থা। কৃষক দল, শ্রমিক দল, তাঁতী দল ও মৎস্যজীবী দলের অবস্থা আরও বেহাল। দলকে চাঙা করতে এসব দল গোছানো ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই দলটির সামনে।
সূত্র- বয়েজ অফ বিডি লাইফ
বাসাইলসংবাদ/একেবি




