
বাসাইলসংবাদ: সোমবার, ২২এপ্রিল, ২০১৯:

নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। সেইসাথে ধর্ষণের বিষয়টি মোটা অঙ্কের টাকায় বিনিময়ে মীমাংসারও অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন মাতাব্বরের বিরুদ্ধে। এছাড়াও মীমাংসার পুরো টাকা ওই ছাত্রীর পরিবারকে না দিয়ে অর্ধেক টাকা আত্মসাত করে ওই মাতাব্বররা।
ওই শিশু উপজেলার এলেঙ্গাতে অবস্থিত একটি মাদ্রাসায় তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। তার বাবা ওই এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। তারা শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার বাসিন্দা।
অভিযুক্ত ধর্ষক আনোয়ার হোসেন এলেঙ্গা হাই স্কুলের ৯ম শ্রেণীর ছাত্র। সে নেত্রকোনা জেলার মদনপুর ইউনিয়নের তেতুলিয়া গ্রামের মাহবুব আলমের ছেলে। তারা দীর্ঘদিন যাবত উপজেলার এলেঙ্গা পৌর এলাকার সেমকো সিএনজি পাম্পের পূর্ব পাশের বাসা ভাড়া নিয়ে এলেঙ্গাতে হোটেল ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ওই ছাত্রীর বাবা বলেন, আমি এলেঙ্গাতে বাসা ভাড়া নিয়ে একটি সেলুন ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। বখাটে আনোয়ারের পরিবার আমাদের পাশবর্তী বাসায় ভাড়া থাকে। গত ১২ এপ্রিল (শুক্রবার) সকালে আমার মেয়েকে আনোয়ার তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। এসময় আমার মেয়ে চিৎকার করলে আমার স্ত্রী ও প্রতিবেশীরা এগিয়ে গেলে ধর্ষক পালিয়ে যায়। আমি থানায় মামলা করতে যাবো শুনে ধর্ষকের বাবা ও বড় ভাই স্থানীয় মাতাব্বরদের বিষয়টি জানান। পরে তারা আমাকে মীমাংসায় বসতে বাধ্য করে। শালিসে ৪০হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে আমাকে ২০হাজার টাকা দিলে আমি নিতে না চাইলে আমার স্ত্রীর কাছে টাকাগুলো দিয়ে যায়। বাকি ২০হাজার টাকা মাতাব্বররা নিয়ে যায়। আমাকে বারবার শালিসের কাগজে স্বাক্ষর দিতে বললেও আমি কোনও স্বাক্ষর দেইনি।
মশাজান গ্রামের স্থানীয় মাতাব্বর আব্দুল জলিল মীমাংসার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘ছেলে-মেয়ে নাবালক হওয়ায় জালাল হাজী, নবাব আলী, দেলোয়ার হোসেন, মোহনসহ ১০-১২জন মিলে অভিযুক্তের পরিবারকে ৫০হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এসময় ছেলে পক্ষ ৫০হাজার টাকা দিতে পারবেনা জানালে ৪০হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তবে মেয়ের পরিবারকে ২০হাজার টাকা দেয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। মেয়ের পরিবারকে পুরো টাকাই দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
অভিযুক্ত ধর্ষক আনোয়ার হোসেন এ ঘটনার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘বিষয়টি আমার বাবা ও বড় ভাই মাতাব্বরদের নিয়ে মীমাংসা করেছেন। এ বিষয়ে আমি আর কিছুই জানিনা।’
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আনোয়ারের বাবা মাহবুব হোসেন বলেন, ছোট একটি বিষয় নিয়ে স্থানীয় মাতাব্বরা আমার কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা নিয়ে মীমাংসা করে দিয়েছে।
এলেঙ্গা পৌর সভার মেয়র নুর-এ-আলম জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। এবিষয়ে কেউ আমার কাছে কোনও অভিযোগ করেনি। যদি কেউ অভিযোগ নিয়ে আসে বিষয়টি আমি দেখবো।
কালিহাতী থানার ওসি মীর মোশারফ হোসেন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নাই। যদি কেউ অভিযোগ করে তাহলে তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থ গ্রহণ করা হবে।
বাসাইলসংবাদ/একেবি




