
এম শহিদুল ইসলামের কবিতা বঞ্চিত মুসাফির

আমি হাটিতেছি পৃথিবীর অজানা পথে হাজার বছর ধরে,
দাব-দগ্ধ দিবসের রুক্ষতা আর হিংস্রমত্ত রজনী পার করে।
অমসৃন, বন্ধুর, দীর্ঘ-সরু এ পথের শেষ কোথায়? আদৌ জানিনা,
অনেক হেটেছি- ক্লান্ত আমি, আজও দেখতে পাইনি এতটুকু আলোর ঠিকানা।
দিনের অবসানে রাতে নেমে আসে প্রচন্ড নিপিড়ন নিঃস্তব্ধতা,
দুরাশার সেই আঁধার পেরিয়ে ছুটে চলেছি আমি শুধু একা।
আশাহীন বিরহ-বিদগ্ধ মনে- ছুটেছি উদ্ভ্রান্ত আমি, প্রয়সীর সন্ধানে,
খোয়ালাম শুধু ভালবাসা মোর বাধলনা কেউ প্রীতি-বন্ধনে।
একি ভীষন বৈরিতা ! বিশাল জগৎময় অজস্র মানুষের মাঝে,
বেদনা-বিদগ্ধ হৃদয়ের শতোৎসারিত আবেগের
নেই কি কোন মূল্য এ নির্মম নিঃসর্গের কাছে??
আর কতকাল ছুটতে হবে এ নিরন্তর পথে করতে হবে ক্রন্দন,
পাব নাকি খুজে কারো, এতটুকু স্নিগ্ধ প্রেম আর প্রীতির বন্ধন?
সেই কবে…কোন কালে কোন এক বসন্তের চাঁদিমা রাতে,
একান্ত সান্নিধ্যে, গভীর অন্তরঙ্গে রেখেছিল প্রয়সীর হাত মোর হাতে।
কথা দিয়েছিল প্রিয়া তার মাথা রেখে এ বুকে,
ভুলিবেনা কভু আমাকে ভুলে গেলেও আমি তাকে।
সেদিনই তারে মনের মাধুরি মিশায়ে সাজিয়ে ছিলাম গভীর ভালবেসে,
আমার হৃদয়ের ফুলদানীতে একান্ত প্রেমের আবেশে।
কথা রাখেনি প্রেয়সী তার, রক্ষা করেনি পণ,
জানিনা কেন, নিষ্ঠুরের মতন ছিড়ে ফেলেছে দু,টি হৃদয়ের পবিত্র বন্ধন।
প্রিয়ার প্রেমের নিঠুর আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত মোরে করেছে বারবার,
প্রেয়সীর প্রমানলে অবিরাম জ্বলেপুড়ে এ হৃদয় হয়েছে ছারখার।
শত আনন্দের উত্তাল তরঙ্গে প্রনয়রত কত মানুষ এ পৃথিবীর,
এ ধরণীর মানুষ হতে বিচ্ছিন্ন দূর্গম পথে, শুধু ছুটে চলেছি আমি নিঃসঙ্গ এক বঞ্চিত মুসাফির।।
বাসাইলসংবাদ/একেবি




