
বাসাইলসংবাদ: মঙ্গলবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১৮:

নিজস্ব প্রতিবেদক:
টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার সদর ইউনিয়নের রাশড়া-নাইকানীবাড়ি সড়কের রাশড়া করিম বাজার থেকে মিরিকপুর পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়কটি স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও পাকাকরণ হয়নি। সর্বশেষ প্রায় একযুগ আগে এই সড়কটিতে মাটি ভরাটের কাজ করা হয়। তারপর থেকে এ পর্যন্ত এই সড়কটিতে আর মাটি ভরাটের কাজ করা হয়নি বলে জানান স্থানীয়রা। ফলে এ এলাকার সাধারণ মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
জানা যায়, উপজেলা সদর থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার পাড়ি হলেই রাশড়া গ্রাম। গ্রামটি বাসাইল সদর ইউনিয়নের আওতায়। গ্রামটি বিভিন্ন এলাকার চেয়ে একেবারেই অবহেলিত। মেম্বার, চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য কারো এই গ্রামটির প্রতি কোনও নজর নেই। উপজেলার প্রায় সড়কটি পাকাকরণ হলেও স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও এই সড়কটি পাকাকরণ হয়নি। ফলে এই অবহেলিত গ্রাম রাশড়া, সৈদামপুরসহ পাশের উপজেলার চাকদহ, রতনপুর, বালিয়াটাসহ কয়েকটি এলাকার সাধারণ মানুষ সড়কটি দিয়ে বাসাইল উপজেলা শহরে পায়ে হেঁটে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করছে। বর্ষা মৌসুমে অল্প পানিতেই ডুবে যায় সড়কটি। তখন তাদের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা থাকে নৌকা। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হলেও তা মেরামত করা হচ্ছে না। গাড়ি চলার মতোও বর্তমানে পরিস্থিতি নেই সড়কটিতে। ফলে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। বিশেষ করে এই এলাকার শিক্ষার্থী ও রোগিদের প্রতিনিয়ত চড়ম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এদিকে কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে ব্যাপক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের।
গত ২২ নভেম্বর বিকেলে সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা সাংবাদিক আসার খবর পেয়ে একত্রিত হয়। এসময় স্থানীয় সাবেক মেম্বার আব্দুল কদ্দুছ, হাজী নজির উদ্দিন, শরিফুল ইসলামসহ অনেকেই বলেন, উপজেলার প্রায় সকল সড়ক পাকাকরণ হলেও আমাদের এই সড়কটি পাকাকরণ হচ্ছে না। সর্বশেষ প্রায় একযুগ আগে এই সড়কটিতে মাটি ফেলা হয়েছিল। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত এই সড়কটিতে আর মাটি ফেলা হয়নি। বারবার মাপজোক হলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। প্রায় ১৬ বছর ধরে এই সদর ইউনিয়নে নির্বাচন হচ্ছে না। ফলে স্থানীয় ইউপি সদস্য বেল্লাল হোসেন প্রায় ১৬ বছর ধরে এ এলাকার প্রতিনিধিত্ব করলেও উন্নয়নের ধারের কাছেও যায়নি তিনি।
মূল সড়ক রাশড়া করিম বাজার থেকে মিরিকপুর। কিন্তু এই সড়কটি পাকাকরণ না হয়ে সম্প্রতি মিরিকপুর থেকে রাশড়া পুরাতন বাজারের মধ্যপাড়া এলাকার মসজিদের পাশ দিয়ে রাশড়া পশ্চিমপাড়ার গফুর ডাক্তারের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কের পাকাকরণের অনুমোদন হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা মূল সড়ক দিয়ে পাকাকরণের দাবি জানিয়েছেন। এই সড়কটি পাকাকরণ হলে অতি সহজেই কয়েকটি এলাকার সাধারণ মানুষ উপজেলা শহরে যাতায়াত করতে পারবে।
উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী আমজাত হোসেন বলেন, ‘প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কের অনুমোদন হয়েছে। মূল সড়কটির জন্যও প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। আশা করছি অতিদ্রুতই এই সড়কটির অনুমোদন হবে।’
বাসাইলসংবাদ/একে




