
বাসাইলসংবাদ: শুক্রবার, ২৯ মার্চ, ২০১৯:

নিউজ ডেস্ক : ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার মাধ্যমে রচিত হয় বাঙালীর প্রতিরোধের ইতিহাস। ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে দুর্বার মুক্তিযুদ্ধ; স্বাধীনতার জন্য অসম এক লড়াই। এক দিকে আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অন্যদিকে বাঙালিদের একমাত্র অবলম্বন অকুতোভয় দেশপ্রেম।
১৯৭১ সালের ২৮ মার্চ সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ঢাকা শহরে কারফিউ শিথিল করা হয়। এদিন রাতে চট্টগ্রামের স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে মুক্তিযুদ্ধে সাহায্যের জন্য পুনরায় বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
স্বাধীনতা ঘোষণার সময় চট্টগ্রাম ও আশেপাশের অধিকাংশ এলাকা বাঙালি সেনাদের দখলে থাকলেও দুই দিনের ব্যবধানেই পাল্টে যায় দৃশ্যপট। চট্টগ্রামের দক্ষিণ থেকে বেলুচ রেজিমেন্ট, উত্তর থেকে চট্টগ্রাম সেনানিবাস এবং কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট থেকে অগ্রসরমান পাকসেনাদের হামলায় পিছিয়ে আসার কৌশল নিতে হয় বাঙালী সেনাদের। তার সঙ্গে বঙ্গোপসাগর ও আকাশ থেকে বোমাবর্ষণে ২৮ মার্চ চট্টগ্রাম চলে যায় পাকিস্তানিদের নিয়ন্ত্রণে।
তবে যশোর অঞ্চলে মুক্তিযোদ্ধারা এগিয়ে যায় দুর্বার গতিতে। তাজউদ্দীন আহমদ, ব্যারিস্টার আমির-উল ইসলামরা পশ্চিমবঙ্গের দিকে ছুটে পথে পথে দেখেন যুদ্ধের প্রস্তুতি। ড. রেহমান সোবহান উল্টোপথে পূর্বে ত্রিপুরামুখী পথে দেখেন, সেনা ইউনিট নিয়েও আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত পাক সেনাদের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে না গিয়ে খালেদ মোশাররফ চোরাগোপ্তা গেরিলা হামলায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া রাখেন নিজের হাতে।
পাকিস্তানি নৌবাহিনী বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় গোলাবর্ষণ করে। নৌবন্দর এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনী বাঙালি নৌ-সেনাদের নিরস্ত্র করে হত্যা করে।
’৭১ এর এই দিনে ঢাকার ওপারে জিঞ্জিরা দখল নিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের গুলিবিনিময় হয়। যশোর, দিনাজপুর, কুষ্টিয়ায় দখল প্রতিষ্ঠা নিয়ে তীব্র সংঘর্ষ হয়। দেশের তিন-চতুর্থাংশ এলাকা স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নিয়ন্ত্রণে থাকে।
এদিকে ময়মনসিংহ থেকে মেজর নূরুল ইসলাম ঢাকায় বেতারযোগে সংবাদ পাঠান যে সেখানে ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসের পাকিস্তানি সেনারা বাঙালি সৈনিকদের ওপর আক্রমণ করেছে। সংবাদ পেয়ে মেজর নূরুল ইসলামকে সাহায্য করার জন্য মেজর কে এম শফিউল্লাহ সৈন্য নিয়ে সেদিকে অগ্রসর হন।
আন্তর্জাতিকভাবে এদিন বাঙালীর স্বাধীনতা আন্দোলনে বড় ঘটনা ঘটে লন্ডনে। গণহত্যার বদলা নেয়ার প্রত্যয়ে বিশাল সমাবেশ ও বিক্ষোভ করে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাঙালী। এতে অংশ নেন বিদেশীরাও।
সূত্র- বাংলার আলো
বাসাইলসংবাদ/একেবি




