
বাসাইলসংবাদ: বুধবার, ২৮ নভেম্বর, ২০১৮:

বাসাইলসংবাদ ডেস্ক :
দুর্নীতি মামলায় সাজা হওয়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। দুই বছরের বেশি দণ্ড হলে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় কোনো ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না, এমন আদেশের স্থগিত চেয়ে বিএনপি নেত্রীর আইনজীবীদের আবেদনটি মঙ্গলবার (২৭ নভেম্বর) খারিজ করার আদেশ দেন বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ। ফলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপাতত অংশগ্রহণ করতে পারছেন না বেগম জিয়া। তবে, আপিল বিভাগ থেকে সাজা স্থগিত হলেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন খালেদা জিয়া।
এদিকে, হাইকোর্টের এই আদেশকে অমান্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, হাইকোর্ট খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে যে রায় দিয়েছেন, তা আমরা মানি না। জনগণও মেনে নেবে না। মঙ্গলবার বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে এভাবেই অহংকারের সঙ্গে আদালত অবমাননা করেন বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
পক্ষান্তরে, আদালত কর্তৃক আদেশ জারি করায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশগ্রহণের শেষ সম্ভাবনাটুকুও বিলীন হয়ে গেলো বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। যদিও বিএনপি নেতারা বিষয়টিকে দলের জন্য ইতিবাচক ও প্রেরণাদায়ক হিসেবেই দেখছেন।
এই বিষয়ে বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, আদালতে রায়ে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার শেষ আশাটুকু বিলীন হয়ে গেলো। বিএনপির ধারণা ছিলো, খালেদা জিয়া জেলে বসেই নির্বাচন করবেন এবং জয়ী হয়ে জেল থেকে বেরিয়ে আসবেন। কিন্তু আদালতের রায়ে তাদের আশা উবে গেলো। আমিও ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি যতই জনপ্রিয় হোক, তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দেয়া উচিত না। কারণ এই ধরনের সুযোগ পেলে তারা ভবিষ্যতে আরো বেশি ভয়ংকর হয়ে উঠবেন। এছাড়া খালেদা জিয়া তো রাষ্ট্রের প্রধান হয়ে দুর্নীতি করে আদালতের রায়ে দণ্ডিত হয়েছেন। তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না দেয়াটাই হবে তার জন্য সবচেয়ে বড় শাস্তি। জনসেবা করার নামে লুটপাট, ক্ষমতার অপব্যবহার করার জন্য খালেদার মতো চিহ্নিত দুর্নীতিবাজদের এর চেয়ে বড় শাস্তি আর হতে পারে না। পাশাপাশি মির্জা ফখরুল রায় অমান্য করে অহংকারের সঙ্গে আদালত অবমাননা করেছেন। বিষয়টি বিচার বিভাগের জন্য হুমকি স্বরূপ। আমি আদালত অবমাননাকারীদের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করছি।
খালেদাকে নির্বাচনে অনুপযুক্ত ঘোষণা করায় দেশের রাজনীতিতে শৃঙ্খলা, সততা ফিরে আসবে বলে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিভূরঞ্জন সরকার। তার মতে, রাজনীতির অপরনাম হলো জনসেবা। রাজনীতির উদ্দেশ্য হবে গণকল্যাণ। অথচ বিএনপি বরাবরই রাজনীতির নামে পেটনীতি ও দুর্নীতিতে অপাদমস্তক ডুবে ছিলো। খালেদা জিয়া প্রতিটি রাষ্ট্রীয় দুর্নীতির সঙ্গে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। তার কারণে রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। সুতরাং তার অপরাধ বিবেচনা করে নির্বাচনে অনুপযুক্ত ঘোষণা করায় আদালতের প্রতি আমার সম্মান আরো বৃদ্ধি পেল। দুর্নীতি ও কল্যাণমুখী রাজনীতি পাশাপাশি চলতে পারে না।
বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আদালত যে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে, তাতে আমরা অসন্তুষ্ট। ম্যাডাম জিয়া সুবিচার থেকে বঞ্চিত হলেন। আমরা আদালতের এই রায় মানি না। এটি সাজানো রায়। রাজনীতি করতে গেলে ভুল-ত্রুটি হতেই পারে। তার জন্য এতবড় শাস্তি দেয়াটা ঠিক হলো না। সরকার ভাবছে খালেদা জিয়ার মত ব্যক্তিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখলে বিএনপির মনোবল ভেঙ্গে যাবে। বিষয়টি তেমন নয়। বিএনপি এখন কিছুটা হলেও পরিষ্কার ভাবমূর্তি নিয়ে ভোটারদের কাছে উপস্থিত হয়ে ভোট চাইতে পারবে। বিএনপি মানেই তো শুধু খালেদা জিয়া নয়। বিএনপিতে আরো জনপ্রিয় নেতা আছেন। সেই অর্থে খালেদা জিয়ার অযোগ্যতা বিএনপিকে জন্য বাড়তি প্রেরণা যোগাবে। নির্বাচনে জয়ী হয়ে আমরা ম্যাডামকে জেল থেকে মুক্ত করব।
সূত্র- বাংলানিউজপোস্ট
বাসাইলসংবাদ/একে




