
মো. জোবায়ের হোসেন : টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে একজন নারী ও বাকি ৪ জন পুরুষ। যেখানে একমাত্র নারী ছাড়া বাকি চারজনেরই করোনা রিপোর্ট এসেছে তাদের মৃত্যুর পর। ফলে মৃত্যুর আগে রিপোর্ট না আসায় করোনার চিকিৎসাও পাননি তারা।

করোনা উপসর্গ নিয়ে নমুনা দেয়ার পর রিপোর্ট পেতে বিলম্ব হওয়ায় মূলত এমনটি ঘটেছে। কেননা গত একমাস যাবৎ নমুনা দেয়ার পর ফলাফল পেতে কমপক্ষে ৭ থেকে ১০ দিন সময় লেগেছে। যদিও এ মাসের শেষ দিকে এই সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ গ্রহন করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, করোনার উপসর্গ নিয়ে উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের শমছের আলী (৬০) গত ৮ জুন নমুনা দেন। এরপর গত ১৫ই জুন নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ১৮ই জুন তার করোনা রেজাল্ট পজিটিভ আসে। উপজেলা পৌর শহরের পুষ্টকামুরী গ্রামের বাসিন্দা শামছুল আলমও (৬০) ৮ জুন নমুনা দেন। এরপর তার শরীরে অন্যান্য শারিরিক সমস্যা থাকায় তাকে সাভারে একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ জুন তিনি মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু ১৮ জুন তারও করোনা রেজাল্ট পজিটিভ আসে। এভাবে গত ১৪ জুন করোনার উপসর্গ নিয়ে নমুনা দেন পৌর শহরের ইউনিয়নপাড়ার বাসিন্দা ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম (৬০)। কিন্তু নমুনা দেয়ার চারদিন পর ১৮ই জুন তিনি নিজ বাড়িতেই মৃত্যুবরণ করেন। ২২ জুন তার করোনা রেজাল্ট পজিটিভ আসে। একইভাবে উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের গোড়াই গন্ধব্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বিশা মিয়া (৬০) গত ১৮ই জুন করোনা উপসর্গ নিয়ে নমুনা দেন। এরপর ২৬শে জুন শ্বাসকষ্টসহ শারিরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে মির্জাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আনা হয়। কিন্তু ওইদিন রাতেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এরপর ২৭ জুন তার রেজাল্টও পজিটিভ আসে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাকসুদা খানম বলেন, ‘রির্পোট বিলম্বে আসায় মির্জাপুরে কিছু সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তাই আমরা এখন ঢাকার ভিন্নদুটি ল্যাবে আমাদের নমুনাগুলো পরিক্ষার করার ব্যবস্থা করেছি। আশা করছি সামনের দিনগুলোতে খুব দ্রুতই নমুনার ফলাফল পাওয়া যাবে।’
…বাসাইলসংবাদ/ ২৯ জুন, ২০২০ /একেবি
সকলের অবগতির জন্য নিউজটি শেয়ার করুন




