
বাসাইলসংবাদ: বুধবার , ২৭ মার্চ, ২০১৯:

নিউজ ডেস্ক : স্বাধীনতা যেকোনো মানুষ কিংবা জাতির মৌলিক অধিকার। যেকোনো মানুষ জন্ম মাত্রই স্বাধীনতার স্বাদ পাবে এটাই নিয়তি। কিন্তু আমাদের সেই সৌভাগ্য হয়নি। আমাদের মৌলিক অধিকার ”স্বাধীনতা” আমাদেরকে অর্জন করতে হয়েছে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে। অনেকেরই ধারণা ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মূল কারণ ছিলো স্বাধীনতা অর্জন। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে ৭১ এর আমাদের সংগ্রাম শুধু স্বাধীনতার সংগ্রাম ছিলো না। ৭১ এর সংগ্রাম ছিলো পশ্চিম পাকিস্তানিদের শোষণ বঞ্চনা মেনে না নেওয়ার সংগ্রাম, তাদের সকল অন্যায় ও অপকর্ম রুখে দেওয়ার সংগ্রাম, জাতিগতভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সংগ্রাম।
স্বাধীনতা আমাদের শেখায় মাথা নত না করা। স্বাধীনতা আমাদের শেখায় যে কোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ করা। স্বাধীনতা সংগ্রাম আমাদের শেখায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। তাই ২৬শে মার্চ আমাদের কাছে অনন্য দিন। দীর্ঘদিনের শোষণ বঞ্চনা, পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙ্গে ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ বঙ্গবন্ধুর ডাকে এই বাংলায় জ্বলে উঠেছিলো স্বাধীনতার কাঙ্ক্ষিত প্রদীপ। দীর্ঘ ৯ মাসের জমাটবাঁধা অন্ধকারে এই স্বাধীনতার এই প্রদীপই সমগ্র বাংলার সাত কোটি মানুষের মনে জ্বালিয়ে রেখেছিল বিজয়ের আশার আলো। ২৬শে মার্চকে তাই এ জাতি স্মরণ করে আত্মশক্তির প্রতীক রূপে। স্মরণ করে আত্মমর্যাদার দিগদর্শন রূপে, স্মরণ করে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর দুর্জয় প্রত্যয় হিসেবে। ২৬শে মার্চের স্বাধীনতার সেই প্রদীপের আলোয় হারিয়ে গেছে পরাধীনতার গ্লানি। এইতো আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাস। আমাদের মাথা সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর ইতিহাস।
স্বাধীনতা শব্দটির তাৎপর্য গভীর ও ব্যাপক। স্বাধীনতা মানে শুধুমাত্র নতুন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আয়োজন নয়। স্বাধীনতা হলো স্বাধীন রাষ্ট্রে সার্বভৌম জাতি হিসেবে টিকে থাকার আয়োজন। স্বাধীনতা মানে ইচ্ছার স্বাধীনতা, রাজনীতির স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক মুক্তি। একটি দেশের স্বাধীনতা সেদিনই সার্থক হয় যেদিন দেশের আপামর জনগণ প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক পরিবেশে, নিজেদের নাগরিক অধিকার নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার ক্ষমতা অর্জন করে। সুখবর হচ্ছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বাধীনতার প্রকৃত সুফল পেতে শুরু করেছে বাংলাদেশ।
দীর্ঘ সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা। বিশ্ব মানচিত্রে অস্তিত্বময় হয়েছে বাংলাদেশ। জাতির বীর সন্তানদের মরণপণ লড়াই, অসংখ্য আত্মদান ও গোটা জাতির অপরিসীম ত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের প্রাক্কালে আমরা গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করছি মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের।
সূত্র- বাংলার আলো
বাসাইলসংবাদ/একেবি




