
নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় ঘুর্ণিঝড় আম্পান ও এরপর টানা ভারি বর্ষণে জমির বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। আর মাত্র দু-তিনদিন পরই গোলায় উঠতো কৃষকের সোনালী ধান। কিন্তু সেটি এখন আর সম্ভব হচ্ছে না অনেকের। কেউ কেউ পানির নিচ থেকেই ডুবে ডুবে ধান কেটে তুলছেন। আবার কোনও কোনও কৃষকের ক্ষেতে পানি কম থাকায় তারা সহজেই ধান কাটতে পারছেন। এমতাবস্থায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট কৃষক।


জেলার বাসাইল ও মির্জাপুর উপজেলায় গত কয়েকদিনের ভারি বর্ষণে বংশাই নদীতে পানি ভরাট হয়ে নিম্নাঞ্চলের আবাদী জমির বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন হাজারো কৃষক। কোনও কোনও বোরো ক্ষেত একেবারেই তলিয়ে গেছে। আবার কোনও ক্ষেতের ধান কিছুটা দেখা যাচ্ছে। এ অবস্থায় যতটুকু সম্ভব কৃষকরা ধান কাটার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কেউ কেউ শ্রমিকের অভাবে পানির নিচে থাকা ধান কাটতেও পারছেন না। সরেজমিনে শনিবার (৩০ মে) দুপুরে বাসাইল উপজেলার বাসুলিয়া, কাঞ্চনপুর, পূর্বপৌলী, মটেশ্বর, পূর্বমটেশ্বর, আগমটেম্বর, সিঙ্গারডাক, যৌতুকী ও মির্জাপুর উপজেলার পাটদিঘী, সুতানরী, বৈন্নাতলীসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

বাসাইল উপজেলার মটেশ্বর গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম বলেন, ‘ আমি অন্যের প্রায় তিন একর জমি বর্গা নিয়ে বোরো আবাদ করেছি। ফলনও এবার ভালো হয়েছিল। প্রায় এক একর জমির ধান কয়েকদিন আগে কেটেছি। কিন্তু দুইদিনের মধ্যে ক্ষেতে পানি এসে আমার দুই একর জমির ধান তলিয়ে গেছে। শ্রমিকের অভাবে ধানগুলো কাটতে পারিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। অন্যের জমি বর্গা নিয়ে আবাদ করি। তিন একর জমিতে প্রায় ৮০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছিল। এবার সব শেষ হয়ে গেলো। এই ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার মতো আমার কোনও উপায় নেই।’
একই এলাকার কৃষক মোমরেজ আলী বলেন, ‘আমার প্রায় চার একর জমির বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এ পর্যন্ত দুই একর জমির ধান পানি থেকেই কেটেছি। শ্রমিকরা পানিতে ধান কাটকে চাচ্ছে না। শ্রমিকদের বাজার দরের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্য এক হাজার থেকে ১১শ’ টাকা করে দিতে হচ্ছে।’

কৃষক সোনা মিয়া বলেন, ‘গত কয়েকদিনের বৃষ্টির পানিতে নদী ভরাট হয়ে বোরো ধান ক্ষেত তলিয়ে গেছে। এখন ১১শ’ টাকা করে শ্রমিক নিয়ে ধান কাটতে হচ্ছে। প্রায় ৫ একর জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছি। এপর্যন্ত ৩ একর জমির ধান কেটেছি।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘জেলার বাসাইল ও মির্জাপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চলে ১১০ হেক্টর জমির বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক কৃষক ইতোমধ্যেই ধান কেটে ফেলেছেন। আবার কোনও কোনও কৃষক এখনও পানির নিচ থেকেই ধান কাটার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।’

তিনি আরও বলেন, এবার জেলায় এক লাখ ৬৯ হাজার ৫শ’ ২৯ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। জেলায় ইতোমধ্যেই ৭০ ভাগ ধান কাটা শেষ হয়েছে।’
…বাসাইলসংবাদ/ ৩১ মে, ২০২০ /একেবি
সকলের অবগতির জন্য নিউজটি শেয়ার করুন




