
নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইলের সখীপুর শহর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সোহেল খান ফাহাদের বিরুদ্ধে স্ত্রীর মর্যাদা চেয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন অন্তঃসত্ত্বা এক নারী। অধিকার আদায়ের দাবিতে জনপ্রতিনিধি ও পুলিশের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ওই নারী। সম্প্রতি স্ত্রী ও সন্তানের অধিকার আদায়ের জন্য ওই নারী ফাহাদের বাসায় গেলে তাকে বেধরক মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ওই নারীর দাবি- তিনি প্রায় চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

অভিযুক্ত সোহেল খান ফাহাদ সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকার বাসিন্দা হুমায়ন খানের ছেলে।
জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নার্সের চাকরি করতেন ওই নারী। ফাহাদ ওই সময় তার কোন এক আত্মীয়কে সিজার করাতে ওই ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখান থেকে ফাহাদের সাথে ওই নারীর পরিচয় হয়। এক পর্যায়ের তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ১১ জানুয়ারি তারা আদালতের মাধ্যমে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। ফাহাদ তাকে সরকারি চাকরি দেওয়ার কথা বলে বিষয়টি কাউকে না জানানোর অনুরোধ করেন। বিয়ের পর তারা মির্জাপুরের গোড়াই ও হাটুভাঙ্গা এলাকায় খবির উদ্দিন ও আলম সিকদারের বাসায় ভাড়া থাকতেন। ফাহাদ পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে অস্থায়ীভাবে চাকরি করতেন। গত দুই মাস আগে তারা খবির উদ্দিনের বাসা থেকে চলে যান। পরে ওই নারী তার বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন। বিষয়টি ফাহাদের মাকে অবগত করলে তিনি ওই নারীর গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে বলেন। সন্তান নষ্ট না করায় ফাহাদের মা বিষয়টি মেনে নেননি। পরবর্তীতে ফাহাদও যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। গত শনিবার (২৬ আগস্ট) ফাহাদের বাড়িতে গেলে ওই নারীকে বেধরক মারধর করে ফাহাদের মা ও তার পরিবারের সদস্যরা। পরে তিনি সখীপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এছাড়াও বিষয়টি বিভিন্ন জনপ্রতিনিধিকে অবগত করেন তিনি।
ওই নারী বলেন, ‘আদালতে বিয়ের সময় ফাহাদ তার নাম পুরোপুরি লেখেননি। এছাড়াও তার বাবার নাম ভুল দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে কাগজটি সঠিক করলেও তিনি আর আমার কাছে জমা দেননি। আমি বর্তমানে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। আমি আমার সন্তান ও স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। ফাহাদ আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। আমি তার স্ত্রীর মর্যাদা এবং সন্তানের অধিকার চাই। বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য নানাভাবে তালবাহানা শুরু করেছে ফাহাদ।’
হাটুভাঙা এলাকার বাসার মালিক খবির উদ্দিন বলেন, তারা প্রায় পাঁচ মাস আমার বাসায় ভাড়া থাকতেন। দুই মাস আগে তারা চলে যান। তারপর থেকে তাদের সাথে আর কোন আমার যোগাযোগ নেই।
সখীপুর শহর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সোহেল খান ফাহাদ বলেন, ‘আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। আমাকে রাজনৈতিকভাবে এই মিথ্যা বানোয়াট ও বিভ্রান্তকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই।’
উপজেলার বড়চওনা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শেখ মোহাম্মদ লিটন বলেন, ‘শুনেছি মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা। তিনি এখন বিভিন্ন ব্যক্তির দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। মেয়েটিকে স্ত্রীর মর্যাদা দেওয়া প্রয়োজন।’
সখীপুর থানার এসআই আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘মেয়েটি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। এরপর থেকে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। প্রাথমিক তদন্তে কাবিননামা পাওয়া গেছে। এখন যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।’
বাসাইলসংবাদ, ২৯ আগস্ট, ২০২৩ / একেবি
সকলের অবগতির জন্য নিউজটি শেয়ার করুন




