
নিজস্ব প্রতিবেদক, সখীপুর ॥ টাঙ্গাইলের সখীপুরে তিনজন জীবিত লোককে মৃত ঘোষণা করে তাদের স্থলে একই গ্রামের অন্য তিনজন লোকের নামে নতুন করে বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনা ঘটেছে উপজেলার হাতিবান্ধা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চাকদহ এলাকায়। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। যাদের মৃত দেখানো হয়েছে তারা হলেন চাকদহ গ্রামের পূর্ণ চন্দ্র সরকার, খুশি মোহন ও আরজু মিয়া। এদিকে ওই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. হাশেম মিয়া ওই চাকদহ গ্রামের উপজাতির নাম ভাঙ্গিয়ে ভাতা তুলে নিজেই আত্মসাত করে আসছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়া ওই ইউনিয়নের ইউপি সচিব মো. মোশারফ হোসেন তার বদলির আদেশ তৃতীয় বারের মতো স্থগিত করেছে বলে এ নিয়ে ইউপি মেম্বার ও সাধারণ জনগণের মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা সমালোচনা চলছে। ভূক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে ও ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার হাতিবান্ধা ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ড চাকদহ গ্রামের পূর্ণ চন্দ্র সরকার পিতা মৃত মতিলাল বহি-নং ৪৯৪১ হিসাব-নং ১৯৬৯, খুশি মোহন পিতা মৃত যুগেন বহি-নং ১৩০৫ হিসাব- নং ১৯৪১, আরজু মিয়া পিতা মৃত খোরশেদ মিয়া বহি-নং ১৩০৮ হিসাব-নং ১৯৪২ নামের তিন ব্যক্তি প্রায় ৫/৬ বছর ধরে নিয়মিত বয়স্ক ভাতা পেয়ে আসছেন। প্রায় একবছর আগে তাদের বয়স্ক ভাতা বন্ধ হলে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে জানতে পারেন তাদেরকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। তাদের স্থলে নতুন করে ওই এলাকার মো. রবি মল্লিক পিতা মৃত রাজ্জাক মল্লিক, মো. এরশাদ মল্লিক পিতা মৃত নূর মল্লিক ও রহমান শিকদার পিতা মৃত মাজম শিকদারকে বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেওয়া হয়েছে। এ কার্ডগুলো কে বা কারা করেছে এনিয়ে ইউপি সদস্য ও ইউপি সচিব একে অপরকে দোষারুপ করছেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এ ছাড়া ওই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হতেয় গ্রামের আবেদ আলীর মৃত্যুতে তার স্থলে ১ নম্বর ওয়ার্ডের চাকদহ গ্রামের আ. জলিল মিয়াকে বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. হাশেমের নামে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা চলছে।
এ ছাড়া ওই এলাকায় কোন উপজাতি বা অধিবাসী না থাকলেও ২১জন উপজাতি বা আদিবাসীর নামে ভাতা তুলে নিজেই সেই টাকা আতœসাৎ করে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও নতুন করে ৪২ জনকে অনগ্রসর ও আদিবাসী হিসেবে তাদের ভাতার কার্ড করে দিবে বলে বেশ কিছু লোকের কাছে ৫ হাজার করে টাকা নিয়েছে ওই মেম্বার। সরকারি টিউবয়েল দেওয়ার নাম করে প্রায় ১৫ জন সাধারণ লোকের কাছ থেকে ৮ হাজার করে নিয়েছে বলে ইউপি সদস্য মো. হাশেমের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
এসব ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন খোদ ইউপি চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন। তিনি বলেন, এ ঘটনাগুলো টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের পক্ষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তদন্ত করছেন।
এদিকে ওই ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. মোশারফ হোসেনকে বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে তাকে তিনবার বদলির আদেশ দেওয়া হলো বলে জানা যায়। তিনি নানা অজুহাত দেখিয়ে প্রত্যেকবারই বদলির আদেশ স্থগিত করেন বলে কয়েকজন ইউপি সদস্য জানায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ইউপি সদস্য বলেন, প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে মোশারফ হোসেন এই পরিষদের সচিব হিসেবে যোগদান করে জন্ম সনদ, মৃত্যু সনদ, ওয়ারিশ সনদসহ নানা ধরনের কাজের জন্য জনগণের কাছ থেকে মাত্রাতিরোক্ত অর্থ হাতিয়ে নিয়ে আসছে। এ ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলে তা জেনে তাদের সাথেও খারাপ আচরণ করে ওই সচিব।
বদলির আদেশ স্থগিত করার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে মোশারফ হোসেন বলেন, আমার বদলির আদেশ স্থগিত করা হয়েছে। বিভিন্ন সনদ নিতে জনগণের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। জীবিত ব্যক্তিদের মৃত দেখিয়ে ভাতার কার্ড প্রসঙ্গে ওই ওয়ার্ডের মেম্বার ও উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তাই ভালো বলতে পারবে।
দুই বারের নির্বাচিত ইউপি সদস্য মো. হাশেম মিয়া বলেন, এ সব বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। এ ঘটনায় চক্রান্ত করে আমাকে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মনসুর আহমেদ বলেন, জাতীয় পরিচয় পত্র জালিয়াতি করে ভাতা কার্ড করার বিষয়টি তার নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে তিনি তা বাতিল করে দেন।




