
বাসাইলসংবাদ: বুধবার, ২৮ আগস্ট, ২০১৯:

নিউজ ডেস্ক : বরগুনায় আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যার দুই মাস পূর্ণ হলো গত ২৬ আগস্ট। এ সময়ে আলোচিত মামলাটির প্রধান সাক্ষী কারাবন্দি রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে ঘিরেই পুলিশের তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। অথচ মামলার এজাহারভুক্ত চার আসামি বন্ড গ্রুপের সদস্য মুসা বন্ড, মুহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, রায়হান ও রিফাত হাওলাদারকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি।
এমনকি তাদের অবস্থানও জানাতে পারছে না পুলিশ। আইনের আওতায় আনা যায়নি হত্যার ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বন্ড গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত ও এই খুনে সম্পৃক্ততা রয়েছে এমন কয়েকজনকেও। শুধু তাই নয়, তিনটি ধার্য তারিখেও পুলিশ রিফাত হত্যা মামলার চার্জশিট দিতে পারেনি। ফলে এ নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছে রিফাত শরীফের পরিবারের সদস্যরা ও বরগুনার সাধারণ মানুষ।
নিহত রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ অভিযোগ করেন, তার ছেলে হত্যার পর পুলিশ যেভাবে কাজ করেছে, এখন তা একেবারেই নেই। তাই বাকি আসামিরা ধরা পড়ছে না। বরগুনা সচেতন নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হোসেন কামাল বলেন, রিফাত হত্যায় যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল তাদের অনেকেই এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।
এ বিষয়ে বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেনকে ফোন করা হলে ব্যস্ততার কথা বলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। তবে জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, ওই চার আসামিকে গ্রেপ্তারের ব্যাপারে কোনো অগ্রগতি হয়নি। এ ছাড়া উচ্চ আদালত থেকে মামলার নথিপত্র তলব ও পুলিশ সুপারের সংবাদ সম্মেলন নিয়ে চাওয়া ব্যাখার পর চার্জশিট তৈরির ক্ষেত্রে বেশ শতর্ক হয়ে এগোচ্ছে পুলিশ। মিন্নিকে মামলার প্রধান নাকি হুকুমের আসামি করা হবে তা নিয়ে দ্বিধায় রয়েছে তারা। এ ব্যাপারে আইনি পরামর্শ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এর আগে রিফাত হত্যা মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। এ মামলায় এজাহারভুক্ত ও জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত মিন্নিসহ ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ জন বরগুনা জেলা কারাগারে রয়েছেন। এই ১৪ আসামির দিন কেমন কাটছে এ ব্যাপারে জেল সুপার আনোয়ার হোসেন জানান, মিন্নি ছাড়া ১৩ আসামিকে কারাগারের অভ্যন্তরে বিশেষ নজরদারিতে বিভিন্ন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। যাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে তাদের রাখা হয়েছে কিশোর ওয়ার্ডে। অন্যসব হাজতিদের মতোই তাদের সুযোগ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। জেলের মধ্যে বেশিরভাগ সময় তাদের কেটে যায় টিভি দেখে। মিন্নিসহ সব আসামিই বর্তমানে সুস্থ আছে।
এদিকে গত ১৪ আগস্ট ছিল আসামিদের নিয়মিত হাজিরার দিন। ওই দিনই এ মামলার চার্জশিট দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা পিছিয়ে গত ২২ আগস্ট চার্জশিট দেওয়ার কথা থাকলেও তা দিতে পারেনি পুলিশ। এখন নতুন করে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর চার্জশিট দাখিলের তারিখ ধার্য করেছেন আদালত। বরগুনার জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে এ চার্জশিট দেবে পুলিশ। যদিও এ তারিখেও পুলিশ চার্জশিট দিতে পারবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে সচেতন মহলের।
অন্যদিকে উচ্চ আদালতের নির্দেশে এ মামলার ডকেট নিয়ে ঢাকায় আছেন তদন্ত কর্মকর্তা বরগুনা থানার ওসি (তদন্ত) হুমায়ূন কবির ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহজাহান হোসেন। অথচ আজ বুধবার তাদের উচ্চ আদালতে সশরীরে উপস্থিত থাকার দিন। এ ছাড়া মিন্নিকে কেনো জামিন দেওয়া হবে না, তার কারণ দর্শানোর শুনানিও হওয়ার কথা। আবার মিন্নির দোষ স্বীকার নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের লিখিত ব্যখ্যা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন কবে উচ্চ আদালতে জমা দেবেন তাও জানাতে পারেনি বরগুনা পুলিশ।
গত ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী বন্ড গ্রুপের সদস্যরা স্ত্রী মিন্নির সামনেই রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা করে। যার ভিডিও নিয়ে সারা দেশে তোলপাড় শুরু হয়। হত্যাকা-ের পরের দিন রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বরগুনা সদর থানায় ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও বেশ কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন।
সূত্র- দৈনিক আমাদের সময়
বাসাইলসংবাদ/একেবি




