
বাসাইলসংবাদ: শনিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০১৯:

এনায়েত করিম বিজয় :
টাঙ্গাইলের সখীপুরে বাজারে টিনের ঘর ভাড়া করে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে। ঘটনাটি উপজেলার কৈয়ামধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। ওই বিদ্যালয় ভবনের বিভিন্নস্থানে ফাটলসহ পলেস্তারা উঠে যাওয়ার বিষয়টি প্রায় এক বছর ধরে সংশ্লিষ্টদের জানালেও তারা কোনও ব্যবস্থা নেননি। ফলে জীবনের ঝুকি নিয়েই বিদ্যালয়ের ছাদ বাঁশের সাথে ঠেকা দিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছিল। এমতাবস্থায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিদ্যালয়টিতে পরিদর্শনে গিয়ে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষনার পর বেকায়দায় পড়ে শিশু শিক্ষার্থীরা। পাঠদানের কোনও জায়গা না পেয়ে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বিদ্যালয়ের পাশের বাজারে দুইটি টিনের দোকান ঘর ভাড়া নিয়ে পাঠদান শুরু করেছেন। শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে দোকান মালিকরাও দোকান ছেড়ে দিয়েছেন। দুইটি রুমের ভাড়া হিসেবে ওই শিক্ষক তার প্রতি মাসের বেতন থেকে ১হাজার টাকা করে দিয়ে যাচ্ছেন। অপরদিকে জীবনের ঝুকি নিয়েই পরিত্যক্ত ওই ভবনটিতে শিক্ষকরা অফিসের কার্যক্রম চালাচ্ছেন। টিন সেডের ওই ঘরটিতে শিশু শিক্ষার্থীদের জায়গা সংকুলান না হওয়ায় পাঠদান ব্যহত হচ্ছে। ওই ঘরটিতে পাঠদানের কোনও রকম পরিবেশ নেই বললেই চলে। সরেজমিনে গিয়ে এসব তথ্য জানা যায়।

উপজেলার কৈয়ামধু সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৩-৯৪ সালের অর্থবছরে ৪ কক্ষ বিশিষ্ট ওই ভবনটি নির্মাণকরা হয়। এ বিদ্যালয়ে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। ওই ভবনের ছাদের ঢালাই ভেঙে বিভিন্নস্থানে রড বের হয়ে গেছে। বর্তমানে ভবনের প্রতিটি জয়েন্টে জয়েন্টে ফাটল দেখা দিয়েছে। যে কোনও সময় ওই ভবনটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বিদ্যালয় ভবনের ছাদ, পিলার ও বীম ফেঁটে গেছে। আশষ্কা এড়াতে বাঁশের খুঁটি দিয়ে ছাদ ঠেকা দিয়ে ক্লাস চলছিল। মাঝে মধ্যেই ক্লাস চলাকালীন সময়েও পলেস্তারা ভেঙে পড়তো। বিষয়টি দীর্ঘদিন সংশ্লিষ্টদের জানালেও তারা কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। পরে ইউএনও স্যার এসে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষনা করে গেছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষনার পর বিকল্প কোনও পথ না পেয়ে বিদ্যালয়ের পাশের বাজারে টিনের ঘর ভাড়া করে কোনও রকমে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে। ওই ঘরটিতে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় পাঠদান ব্যহত হচ্ছে। অপরদিকে পাঠদানের তেমন পরিবেশও নেই। সাময়িকভাবে ক্লাস চালানোর জন্য টিনের ঘর তৈরি বাবদ শিক্ষা অফিস থেকে তিন লাখ টাকা দিতে চেয়েছিল। সেটিও এখনও পাইনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই গ্রামটি খুব অবহেলিত। এই এলাকার আশপাশে আর কোনও বিদ্যালয় নেই। ফলে এই এলাকার সকল শিশু শিক্ষার্থীরা এখানেই পড়তে আসে।’
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মানবেন্দ্রে দাশ বলেন, ‘ওই বিদ্যালয়ের ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুর রহমান বলেন, ওই বিদ্যালয়ের ভবনটি পরত্যিক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন পাকা ভবন বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। সাময়িকভাবে ক্লাস চালানোর জন্য টিনের ঘর তৈরি বাবদ সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে তিন লাখ টাকা বরাদ্দ এসেছে, কিন্তু ছাড় হয়নি।’
বাসাইলসংবাদ/একেবি




