
ক্রীড়া ডেস্ক : এবারের বিশ্বকাপে শুরু থেকে নিজের প্রত্যাশামাফিক খেলতে পারছেন না পর্তুগালের সুপারস্টার অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। প্রথম পর্বের তিন ম্যাচে তার পা থেকে এসেছে একটি মাত্র গোল। তিনটি ম্যাচেই বিরতির পর কোচ ফার্নান্দো সান্তোস তাকে তুলে নিয়েছিলেন।

প্রথম পর্ব পেরোনোর পর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল শেষ ষোলোর ম্যাচে রোনালদোকে ডাগআউটে বসিয়ে রাখতে পারেন পর্তুগিজ কোচ। এতে বেশ খেপে গিয়েছিল ক্রিস্টিয়ানোর ভক্ত-অনুরাগীরা। কেননা কোচের সঙ্গে ক্রিস্টিয়ানোর তেমন বনিবনা হচ্ছিল না। তা ছাড়া সে আহামরী তেমন কোনো পারফরম্যান্সও দেখাতে পারেনি তিন ম্যাচে।
ম্যাচের দিনে সন্দেহটা সত্যি সত্যি প্রমাণ হল। যখন দেখা যায় মাঠে নয়, গেলেন ডাগআউটে রোনালদো। তার জায়গায় কোচ তরুণ গনসালো রামোসকে সুযোগ দেন নকআউট পর্বে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে। যেখানে পা হড়কালেই বিদায় নিতে হবে দলকে। তার মধ্যে কোচ ফাটকা খেললেন রোনালদোকে প্রথম একাদশে বসিয়ে রেখে।
কিন্তু কেউই হয়তো কল্পনাও করতে পারেনি, কোচের এই স্ট্র্যাটেজি যে শতভাগ সাফল্য এনে দেবে। যে গনসালোকে নিয়ে কোনো আলোচনা নেই, সেই গনসালো কিনা একাই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিলেন। সুপারস্টারের জায়গায় খেলতে নেমেই পেলেন হ্যাটট্রিকের দেখা। তাও এই বিশ্বকাপের প্রথম হ্যাটট্রিক এটি। গনসালোর দিনে পর্তুগিজরা ৬-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে সুইজারল্যান্ডকে। অথচ এই সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্ব জিততে ব্রাজিলকে ঘাম ঝড়াতে হয়েছে। ক্যাসেমিরোর করা শেষের দিকে গোলে জয় পেয়েছিল ব্রাজিল।
অথচ এই সুইসদের রোনালদোকে ছাড়াই ৬-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে সান্তোসের দল। অবশ্য বিরতির পর কোচ রোনালদোকে মাঠে নামিয়েও ছিলেন। গোলও পেয়েছিলেন রোনালদো, কিন্তু অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়ে গিয়েছে।
পর্তুগাল কোয়ার্টার ফাইনালে পাচ্ছে এবারের বিশ্বকাপে উজ্জ্বীবিত খেলা মরক্কোকে। এই ম্যাচে প্রথম একাদশে সান্তোস সুপারস্টার রোনালদোকে রাখবেন কিনা সেটি নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। গনসালোর দুর্দান্ত পারফরম্যান্স রোনালদোর একাদশে থাকা নিয়ে দ্বিধায় ফেলে দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত সান্তোসকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে দলের স্বার্থে কাকে খেলাবেন আর কাকে বসিয়ে রাখবেন।
বিশ্বকাপ শুরুর আগ থেকেই কোচের সঙ্গে বনিবনা হচ্ছিল না রোনালদোর। শুধু কোচই নন, দলের অন্যতম মিডফিল্ডার ব্রুনো ফের্নান্দেজের সঙ্গে কথার তর্কে জড়িয়ে ছিলেন তিনি, যা তার খেলার মধ্যে প্রভাব ফেলেছে বলা যায়।
তবে কি রোনালদো অধ্যায়ের এখানেই সমাপ্তি? শুরুর একাদশে আর কখনই জায়গা মিলছে না তার? সান্তোস অবশ্য এমন পারফরম্যান্সের পরও মরক্কোর বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে রামোসের খেলা নিশ্চিত করেননি, ‘এটা এখনো চূড়ান্ত করার বিষয় হয়নি।’
৬৮ বছর বয়সী এই কোচ সংবাদ সম্মেলনে জোর গলায় জানান, দেশের ইতিহাসের সেরা তারকার সঙ্গে তার নেই কোনো বিবাদ, ‘কালও আমি যেটা বলেছিলাম, রোনালদোর সঙ্গে আমার কোনো সমস্যা নেই। তার (রোনালদো) সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক আছে, সব সময়ই ছিল। স্পোর্টিং লিসবনে সে যখন খুব তরুণ তখন থেকেই তাকে আমি চিনি। এর পর আমি জাতীয় দল উন্নতির কাজ করেছি।’
তিনি আরও জানান, ‘আমাদের সম্পর্কটা এরপর গাঢ় হয়েছে। আমরা অনেক বছর ধরে বন্ধু। এটা সম্পর্কে ক্ষতি করবে না।’
এই ম্যাচে রোনালদোকে কেন শুরুর একাদশে রাখা হয়নি, তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান সান্তোস। পুরো ব্যাপারটা যে রোনালদোই নেতৃত্বের মুনশিয়ানায় মেনে নিয়েছেন তা-ও বলেছেন পর্তুগিজ কোচ, ‘আমি এর মধ্যে ব্যাখ্যা দিয়েছি যে, সব সমাধান হয়েছে। আমি আগেও বলেছি, আবার বললাম। এটা এমন কিছু, যার সমাধান হয়ে গেছে।’
বাসাইলসংবাদ, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২ / একেবি
সকলের অবগতির জন্য নিউজটি শেয়ার করুন




