
বাসাইলসংবাদ: সোমবার, ২২ জুলাই, ২০১৯:

নিজস্ব প্রতিবেদক, মির্জাপুর ॥টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে প্রশাসনের উদ্যোগে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (২২ জুলাই) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ বেশ কয়েকটি গ্রামের প্রায় ২৫০টি পরিবারের মাঝে সাড়ে ৭ টন চাল বিতরণ করা হয়। এরমধ্যে বন্যায় নদী গর্ভে বিলীন হওয়া ৫৫টি পরিবারকে ৩০ কেজি ও আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ প্রায় ২০০ পরিবারকে ১৫ কেজি করে চাল বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল মালেক। সেসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে মির্জাপুর পৌর সভার মেয়র সাহাদৎ হোসনে সুমন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম আজাহার, ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মশিউর রহমানসহ ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা, আনসার কর্মকর্তা ও সাংবাদিকবৃন্দসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বিকেল ৩টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, পৌর মেয়র, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান, বেশ কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান, গণ্যমান্য ও স্থানীয় সাংবাদিকদের নিয়ে বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এতে জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের বরাত দিয়ে জানা যায় তুলনামুলকভাবে টাঙ্গাইলের অন্যান্য উপজেলার চেয়ে মির্জাপুর উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি অনেকটাই ভাল। বন্যায় এখন পর্যন্ত কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে হয়নি বলে জানান উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। এছাড়াও কৃষি ক্ষেত্রেরও উল্লেখযোগ্য কোন ক্ষতি হয়নি বলে জানান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। তবে উপজেলার নদীকূলের কয়েকটি ইউনিয়নে নদীপাড়ের বেশকিছু বাড়ি ঘর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে বলে উপস্থিত জনপ্রতিনিধিরা জানান।

ভাঙনে ভিটেবাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাবন করছেন এক বৃদ্ধা
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল মালেক জানান, বন্যা বিষয়ে মির্জাপুর উপজেলা প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। ইতোমধ্যে সরকারের কাছে উপজেলায় ১৩টি আশ্রয় কেন্দ্রের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বন্যায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা করে তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সাধ্যমতো ব্যবস্থা করা হবে। তবে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় মির্জাপুর উপজেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে বলেও জোর দেন তিনি।
বাসাইলসংবাদ/একেবি




