
নিজস্ব প্রতিবেদক, দেলদুয়ার : টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে ক্লিনিক ব্যবসায়ী আনিসুর রহমানকে ভাড়াটে খুনি দিয়ে হত্যা করান তার স্ত্রী। আদালতে জবানবন্দিতে দুই আসামি এ কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক সুজন মিয়া। তাদের স্বীকারোক্তির পর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) নিহত আনিসুর রহমানের স্ত্রী মুরছেনা বেগমকে গ্রেফতার করে রবিবার (৬ জুন) টাঙ্গাইল চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা করে। টাঙ্গাইলের সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. কুতুব উদ্দিন এতথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেফতারকৃত অন্য আসামিরা হলেন- জেলার দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটি গ্রামের হেলাল খানের ছেলে রিপন খান (২৩), ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার পোড়াবাড়ী গ্রামের মৃত হাকিম খানের ছেলে আব্দুস সেলিম খান (৬০)।
জানা যায়, গত বছরের ১৭ নভেম্বর জেলার দেলদুয়ার উপজেলার হেরেম্বপাড়া গ্রামের আনিসুর রহমানের (৫০) বস্তাবন্দি লাশ স্থানীয় খাল থেকে উদ্ধার করা হয়। আনিসুর রহমান লাউহাটি বাজারের জনসেবা ক্লিনিকের মালিক ছিলেন। ঘটনার পরদিন তার মেয়ে মারুফা আক্তার বাদী হয়ে দেলদুয়ার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। প্রথমে দেলদুয়ার থানা পুলিশ মামলার তদন্ত করে। পরে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় টাঙ্গাইলের সিআইডি পুলিশকে।
টাঙ্গাইলের সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. কুতুব উদ্দিন বলেন, ‘মামলার দাায়িত্ব পাওয়ার পর তদন্তের মাধ্যমে হত্যায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়। পরে তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে গত বুধবার (৩ জুন) বিকেলে গাজীপুরের টুঙ্গী বাজার এলাকা থেকে রিপন খানকে গ্রেফতার করা হয়। তার তথ্য অনুযায়ী ওই রাতেই ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার পোড়াবাড়ী গ্রাম থেকে আব্দুস সেলিম খানকেও গ্রেফতার করা হয়। এছাড়াও শনিবার (৫ জুন) রাতে আনিসুর রহমানের স্ত্রী মুরছেনা বেগমকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।’
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক সুজন মিয়া জানান, জিজ্ঞাসাবাদে তারা দুইজনেই হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। আনিসুরকে হত্যা করার জন্য তার স্ত্রী মুরছেনা বেগম তাদের ভাড়া করেছিলেন বলে সিআইডি পুলিশকে জানান। পরে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এই দুই আসামিকে টাঙ্গাইল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। পরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুর রহমান সেলিম খান এবং ফারজানা হাসানাত রিপন খান তাদের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।’
বাসাইলসংবাদ/ ০৭ জুন, ২০২১ / একেবি
সকলের অবগতির জন্য নিউজটি শেয়ার করুন




