
নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইলের বাসাইলে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন (বার্ষিক) পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে ফি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে উপজেলার কাউলজানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক শামছুল আলম মিয়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক শামছুল আলম মিয়াকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে শোকজ করা হয়েছে।

জানা গেছে, গত ১ ডিসেম্বর থেকে বাসাইল উপজেলায় একযোগে সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন (বার্ষিক) পরীক্ষা শুরু হয়। এ পরীক্ষায় সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে উপজেলার কাউলজানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস ওয়ান থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফি উত্তোলন করা হয়। এ বিদ্যালয়ের অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক শামছুল আলম মিয়ার নির্দেশে ক্লাসের সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা শ্রেণিভিত্তিক ২০ টাকা থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত ফি উত্তোলন করেন। এছাড়াও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানের জন্য বিদ্যালয়ের প্রায় সকল শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ১০ ডিসেম্বর বিষয়টি জানাজানি হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তপেক্ষে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক শামছুল আলম মিয়া উত্তোলনকৃত টাকাগুলো ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক শামছুল আলম মিয়াকে শোকজ করা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, ‘আমার মেয়ের কাছ থেকে পরীক্ষার ফি বাবদ ৬০ টাকা নেওয়া হয়েছে। শুনেছি পরীক্ষার জন্য অন্য কোনো বিদ্যালয়ে টাকা নেওয়া হয় না। কিন্তু এ বিদ্যালয়ে কেন টাকা নেওয়া হয়- বিষয়টি জানি না। পরীক্ষার ফি ছাড়াও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানের জন্য আরও ১০০ টাকা নেওয়া হয়েছে।’
বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, ‘তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষায় সকল শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে প্রধান শিক্ষক পরীক্ষার ফি বাবদ টাকা নিয়েছেন। শুনেছি প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের টাকাগুলো ফেরত দেওয়া হবে।’
কাউলজানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক শামছুল আলম মিয়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে বসেছিলাম। প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মির্জা মোশারফ হোসেন বলেন, ‘সরকারিভাবে পরীক্ষার ফি নেওয়া নিষেধ রয়েছে। তিনি কি কারণে পরীক্ষার ফি নিয়েছেন এটা বলতে পারবো না। তবে পরীক্ষার জন্য ফি নিয়ে থাকলে তিনি কাজটি ঠিক করেননি।’
উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (সদর ক্লাস্টার) হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বিষয়টি জানতে পেরে পরীক্ষার ফি সংক্রান্ত নেওয়া টাকাগুলো ওই প্রধান শিক্ষককে ফেরত দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে।’
বাসাইলসংবাদ, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ /একেবি
সকলের অবগতির জন্য নিউজটি শেয়ার করুন






