
বাসাইলসংবাদ: মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ, ২০১৯:

নিজস্ব প্রতিবেদক : আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বাসাইলে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনীত ও বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। দলীয় প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মতিয়ার রহমান গাউস। নানা নাটকীয়তার মধ্যে দিয়ে তার মনোনয়ন লাভে নেতাকর্মীরা প্রায় নীরব ভূমিকা পালন করছেন। সাংগঠনিক ব্যবস্থার ভয়ে প্রকাশ্যে কেউ মুখ না খুললেও বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলামের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন অনেকেই। গত ৪ মার্চ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগ মূহুর্তে বাসাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ও মনোনয়ন দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মাঝে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী মাঠ ছাড়া রয়েছেন বলে জানা গেছে।
নেতাকর্মীরা জানান, ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের চাপে বিদ্রোহী প্রার্থী হন কাজী অলিদ ইসলাম। নেতাকর্মীরা মনে করেন, দলের দুর্দিনের পরীক্ষিত নেতা কাজী অলিদ। তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে এ বিদ্রোহী প্রার্থী সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে ভোটের মাঠে সুবিধা করতে পারছেন না দলীয় প্রার্থী হাজী মতিয়ার রহমান গাউস।
হাজী মতিয়ার রহমান গাউস নৌকা প্রতীক ও কাজী অলিদ ইসলাম আনারস প্রতীক নিয়ে দিনরাত ভোট প্রার্থনায় ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। করছেন গণসংযোগ, উঠোন বৈঠক, সভা-সমাবেশসহ বিভিন্ন কায়দায় ভোট প্রার্থনা।
এদিকে উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান কাজী শহীদুল ইসলাম স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসেবে (দোয়াত-কলম) প্রতীকে মাঠে রয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থীর দ্বন্দ্বকে কাজে লাগাতে দিনরাত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
অপরদিকে আওয়ামী লীগ নেতা ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাহমুদ হোসেন আল মাজিদী শীষ মিয়া তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এরআগে বিএনপি নেতা নিজামুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। ফলে এই দুই নেতা নির্বাচন করতে পারছেন না।
এদিকে পুুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে সাদিকুর রহমান খান শাহিন (টিয়ে পাখি), নুরুল ইসলাম খান (তালা), শাহাদত হোসেন খান (চশমা), সাইফুল ইসলাম খান মন্টু (উড়োজাহাজ), এসএম ফজলুল হক মিয়া (মাইক), সাইফুল ইসলাম শিপন সিকদার (টিউবওয়েল) ও নাজমুল হুদা খান বাহাদুর (পালকী) প্রতীকে মাঠে রয়েছেন।
অপরদিকে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে রোজিনা মফিজ খান (পদ্মফুল), জবেদা বেগম (প্রজাপতি), মলি আক্তার (ফুটবল), রেখা বেগম (হাঁস) ও শাম্মী আক্তার মুক্তি (কলস) প্রতীকে মাঠে রয়েছেন।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান প্রার্থী ছাড়াও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা চায়ের দোকান, রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজারসহ বিভিন্ন পয়েন্টে সাঁটিয়েছেন পোস্টার-ফেস্টুন। প্রার্থীরা গণসংযোগসহ ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। এ উপজেলায় চতুর্থ ধাপের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ৩১ মার্চ।
উল্লেখ্য, এ উপজেলায় ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৫৩টি। মোট ভোটার সংখ্যা ১লাখ ৩৩ হাজার ৭শ’ ৪২জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ৬৫৩২৩ ও মহিলা ভোটার ৬৮৪১৯জন।
বাসাইলসংবাদ/একেবি




