
নিজস্ব প্রতিবেদক, মির্জাপুর : টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে এবারের বন্যা। পানিবন্দি হয়েছেন উপজেলার সিংহভাগ জনগোষ্ঠী। ভেঙ্গে পড়েছে স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা। দুর্ভোগের চরমে পৌছেছে জনজীবন। এমন পরিস্থিতিতে ত্রাণের পাশাপাশি চিকিৎসা সেবা চলমান রাখতে একযোগে কাজ করছে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

বুুধবার (২৯ জুলাই) সরেজমিনে মির্জাপুর পৌরসভা ভবনে গিয়ে দেখা যায়- সেখানে উপজেলা প্রশাসনের ত্রাণের চাল বিতরণের পাশাপাশি একটি অস্থায়ী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। যেখানে এদিন পৌর এলাকার ৫শ’ পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করা হয় বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মো. আশরাফুজ্জামান।
এদিকে ত্রাণ নিতে এসে চিকিৎসা সেবা পেয়ে আনন্দিত বন্যা দুর্গতরা। ত্রাণ নিতে আসা উপজেলার পৌর ৪ নং ওয়ার্ডের এক নারী বাসিন্দা বলেন, ‘পানিতে সব তলাইয়া গেছে। ত্রাণ নিতে আইছি। এহন দেহি এইহানে ডাক্তারও আছে। তাই ডাক্তার দেহাইয়া কিছু ঔষধও নিয়া গেলাম।’
আরেক জন বলেন, ‘পানিতে খুব সমস্যা। কয়দিন ধইরা পানি খাইয়া তৃপ্তি পাইনা। পেটটা খারাপ খারাপ লাগে তাই ডাক্তার আপারে কইয়া কয়ডা স্যালাইন নিয়া গেলাম।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাকসুদা খানম বলেন, ‘উপজেলার প্রায় সব কমিউনিটি ক্লিনিকেই পানি ঢুকে পড়েছে। কিন্তু আমরা প্রায় ২৬টি কমিউনিটি ক্লিনিকের সরঞ্জাম উঁচু স্থানে স্থানান্তর করে চিকিৎসা সেবা প্রদান চলমান রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল মালেক বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০ হাজারের অধিক মানুষের তালিকা তৈরি করে ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। বন্যায় আশ্রয়হীন হয়ে পড়া কিছু মানুষ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছে। আমরা তাদের কাছেও ত্রাণ পৌছে দিচ্ছি। পাশাপাশি চিকিৎসা সেবাটা যেন দিতে পারি সে ব্যাপারে তৎপর রয়েছি।’
…বাসাইলসংবাদ/ ৩০ জুলাই, ২০২০ /একেবি
সকলের অবগতির জন্য নিউজটি শেয়ার করুন




