
নিজস্ব প্রতিবেদক, টাঙ্গাইল সদর : বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর, একুশে পদকপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বর্ষীয়ান নেতা ফজলুর রহমান খান ফারুক (৮০) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শনিবার (১৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে শহরের থানাপাড়া নিজ বাস ভবনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন৷

ফজলুর রহমান ফারুকের ছেলে সাবেক সংসদ সদস্য খান আহমেদ শুভ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক আইডিতে তার বাবার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ফজলুর রহমান খান ফারুক দীর্ঘ দিন ধরে অসুস্থ ছিলেন । শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে তিনি কথা বলতে পারছিলেন না। পরে শনিবার সকালে তার কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তার বাড়িতে জেলার বিভিন্নস্তরের মানুষ সমবেদনা জানাতে জড়ো হলেও নিজ দলের শীর্ষ পর্যায়ের কোন নেতাকর্মীদের দেখা যায়নি। তার ছেলে সাবেক সংসদ সদস্য খান আহমেদ শুভ পলাতক রয়েছে। আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ফজলুর রহমান খান ফারুককে প্রধান আসামী করা হয়।
জানা গেছে, ফজলুর রহমান খান ফারুক পাকিস্তান গণপরিষদ সদস্য এবং টাঙ্গাইল-(মির্জাপুর) ৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারমান ও টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। আওয়ামী লীগের এই বর্শীয়ান নেতাকে মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য শেখ হাসিনা সরকার তাকে ২০২১ সালে একুশে পদক প্রদান করেন। ফজলুর রহমান ফারুক ১৯৪৪ সালের ১২ অক্টোবর টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের ওয়ার্শী ইউনিয়নের কহেলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে মাষ্টার্স পাস করেন। তার ছেলে খান আহমেদ শুভ টাঙ্গাইল -৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। তিনিও বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
বাদ আসর টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থান জামে মসজিদে যানাজা শেষে কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের লোকজনের তোপের মুখে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদর্শন ছাড়াই তাকে দাফন করা হয়। জানাজা নামাজের আগে বক্তব্য দেন সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী ও তার পরিবারের সদস্যরা।
বাসাইলসংবাদ, ১৯ অক্টোবর, ২০২৪ / একেবি
সকলের অবগতির জন্য নিউজটি শেয়ার করুন






