
নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সন্ত্রাসীদের অপকর্মের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে কৃষিবিদ মো. দুলাল মিয়া। শনিবার দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, মির্জাপুরের সিংজুরী গ্রামের আশুতোষ সরকার, গৌড় চন্দ্র সরকার এবং নূরুল ইসলামের নেতত্বে ভাতগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম ও ভাতগ্রাম ইউপি মেম্বার নাজিম উদ্দিন সহকারে একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র গড়ে তুলেছেন। এই সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্রের অন্যান্য সদস্যরা হচ্ছে সিংজুরী গ্রামের দুলাল সিকদার, সানোয়ার হোসেন, রতন বিশ্বাস, রফিক মিয়া, বাচ্চু মিয়া, বাদশা মিয়া, লাভলী বেগম, বাছিরণ বেগম, শিপ্রা বিশ্বাস, সন্তোষ সরকার, সন্তোষ সরকার বিএসসি, মনীন্দ্রনাথ সরকার, দীনেশ সরকার, শদু মিয়া, পরীক্ষিত সরকার, করুনা কান্তি সরকার, সিকদার শামছুল আলম, চান মিয়া খানসামা, বাবুল খানসামা, আব্দুর রহমান গং। সন্ত্রাসীরা নিজ নিজ ধর্ম অনুযায়ী একজন আরেকজনের সহিত আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ, কিছু সংখ্যক আত্মীয়তার সূত্র ধরে ভিন্ন গ্রাম হতে এসে সিংজুরী গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। সমাজ ও নৈতিকতা বিরুধী কাজের জন্য ইতোপূর্বে এদের অনেকের বিরুদ্ধে একাধিক গ্রাম্য সালিস হয়েছে। এদের অনেকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে। অনেকে অবৈধ ড্রেজার ব্যবসার সহিত জড়িত। এর কখনও আওয়ামীলীগ, কখনও বিএনপি, কখনও জাতীয় পার্টি, কখনও স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষ হয়ে নির্বাচনী প্রচারণা করে থাকে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহিত নৈকট্য লাভ করে বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে থাকে। বিশেষ অপকৌশল হিসেবে হিন্দু ইজম, হিন্দু আধিপত্য ও সংখ্যা লঘু আইনের প্রচার ঘটিয়ে সিংজুরী নাট মন্দিরে নিয়মিত মিটিং করে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে পারিপার্শ্বিক সব তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ধারাবাহিকভাবে বহুমুখী অপরাধ করেছে।

কৃষিবিদ দুলাল মিয়ার দাবি, তারা সাংগঠনিক এজেন্ডায় ইস্যু হিসেবে মেছের আলীর জমি বেআইনীভাবে রতন বিশ্বাস কে দখল বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য বাধ্য করতে মেছের আলীসহ আমাকে হয়রানী করার ষড়যন্ত্র করছে। ২৭ বছর যাবত ভোগদখলরত অবস্থায় মেছের আলী বাদি হয়ে গত বছরের ৪ মার্চ ও ৩১ মার্চ ভূমি বিষয়ে ১৪৪ ধারা ও ঘোষণামূলক মোকদ্দমা দায়ের করলে আদালত কর্তৃক দখলাবস্থা বজায় রাখার আদেশ হয়। পরে ২৪ এপ্রিল মির্জাপুর থানা কর্তৃক শান্তি শৃংখলা বজায় রাখার নোটিশ জারি করে। মেছের আলীর দায়েরকৃত ১১৫/২১ নং ঘোষণামূলক মোকদ্দমায় বাদীপক্ষে মেছের আলীর দীর্ঘকাল ব্যাপী ভোগদখল বিদ্যমান মর্মে ২৮ অক্টোম্বর আদালত কর্তৃক স্থিতিবস্থা আদেশ হয়।
দুলাল মিয়া বলেন, সন্ত্রাসীরা রতন বিশ্বাসকে বাদি করে গত বছরের ২৪ মার্চ হুমকির একটা মিথ্যা মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে মামলায় গত ১৪ ফেব্রæয়ারি মেছের আলীসহ চারজন অব্যাহতি পেয়েছে। আদালতের আদেশ এবং মির্জাপুর থানার নোটিশ অমান্য করে ২০২১ সালে ধারাবাহিকভাবে সন্ত্রাসীরা সংঘবদ্ধভাবে ষড়যন্ত্র, অবৈধ সমাবেশ, হুমকি, দোকান ভাংচুর ও বন্ধকরণ, একঘরে করণ, ঈদের নামাজ ও কুরবানী নিষিদ্ধকরণ, চুরি, ডাকাতি, চাদাদাবী, হামলা, মিথ্যাচার, অপপ্রচার ও মানববন্ধনের নামে মিথ্যাচার, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, শতভাগ মিথ্যা তথ্য সংবাদপত্রে প্রকাশিত করাসহ বহুমুখী অপরাধ করে আসছে। সন্ত্রাসীদের ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে, কৌশল কিছুটা পরিবর্তিত হয়েছে।
দুলাল মিয়া আরও বলেন, পাঁচবারের সকল তদন্তে মেছের আলীর দাবি ও অভিযোগের সত্যতা মিলে, নামজারী ও তদন্ত প্রতিবেদনসহ ভূমি বিষয়ক কর্মকর্তার চারটি প্রতিবেদন ও চারটি মামলায় আদালতের আদেশ মেছের আলীর পক্ষে। থানার দুটি তদন্তে আসামীরা তাদের অপকর্মের স্বীকারোক্তি প্রদান করে আপোস মীমাংসার অজুহাতে আসামীরা ষড়যন্ত্র করে ধারাবাহিক অপরাধ করেছে।
সন্ত্রাসীদের অপকর্ম, মিথ্যাচার ও প্রকাশিত মিথ্যা সংবাদের বিরুদ্ধে গত ৩০ ডিসেম্বর টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে আমি বিবৃতি প্রদান করি। যার সংবাদ বিভিন্ন পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলে প্রচারিত, প্রকাশিত হয়। উক্ত সংবাদ সম্মেলন ও প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে সন্ত্রাসীরা হুমকি দেয় যে তারা মিথ্যা সংবাদ প্রচার করে পরবর্তী উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করবে। প্রয়োজনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবে। গত বছরের ২ মে থেকে বন্ধ মুদি দোকানের ডিসেম্বর পর্যন্ত ভাড়া পরিশোধ করেও নিরুপায় হয়ে সিংজুরী নতুন ব্রিজ সংলগ্নœ ভূমিতে মেছের আলী দোকান চালু করে, গত ০৩ জানুয়ারি রাতে সন্ত্রাসীরা উক্ত দোকানের সামগ্রী ভাংচুর করে। পরে ৫ জানুয়ারি র্যা ব, মহাপরিচালক বরাবর মেছের আলী আবেদন করেন।
মেছের আলীর জমিতে কোনো কৃষি শ্রমিক, ট্রাক্টর যাতে যেতে না পারে সেমর্মে আসামীরা এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতি করেছে। আমিসহ মেছের আলী ও তার পরিবার, আত্মীয়স্বজন কে হয়রানী করার জন্য আসামীরা নিয়মিত ষড়যন্ত্র করছে, হুমকি প্রদান করছে, ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। অদ্যাবধি সন্ত্রাসীদের ৮ টি লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করলেও সন্ত্রাসীরা কোনো জবাব দেয় নাই, সংশোধন হয় নাই, সতর্ক হয় নাই, ধারাবাহিকভাবে বহুমুখী অপরাধ করে যাচ্ছে। মির্জাপুর থানায় আপোস মীমাংসার মাধ্যমে রতন বিশ্বাসকে জমির দখল বুঝিয়ে দেবে, অন্যথায় হয়রানীমূলক মামলা দেওয়া হবে মর্মে সন্ত্রাসীদের পক্ষ হতে হুমকি দেয়া হচ্ছে।
মির্জাপুর থানায় মেছের আলী কর্তৃক দায়েরকৃত অভিযোগের ভিত্তিতে আসামীদের বিরুদ্ধে মির্জাপুর থানা কর্তৃক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন মর্মে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ২য় বারের মতো মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করা হয়েছে।
নিরুপায় ও অসহায় হয়ে মেছের আলী এসবের প্রতিকার চেয়ে গত ২৮ ফেব্রæয়ারি ২য় বার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ ও মহাপরিচালক, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তর বাংলাদেশ বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন। এছাড়াও সরকারের দায়িত্বশীল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সংস্থা প্রধান বরাবর মেছের আলী লিখিতভাবে একাধিক আবেদন করেছেন।
বাসাইলসংবাদ/ ১২ মার্চ, ২০২২ / একেবি
সকলের অবগতির জন্য নিউজটি শেয়ার করুন




