
নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইলের সখীপুুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে লাল মিয়া নামের এক ভ্যানচালকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসময় ভ্যান ও ভ্যানে থাকা চাউল দেখে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। গত ১৬ মে উপজেলার দাড়িয়াপুর দক্ষিণপাড়া ঘোড়া মার্কেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্তের পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার দাড়িয়াপুর দক্ষিণপাড়া লাল মিয়া ও আব্দুল জলিল ওরফে জেলু মিয়ার সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকার সালিশী বৈঠকেও বসা হয়েছে। বারবার সালিশী বৈঠকে বসলেও কোন সমাধানে আসেনি। এর বিরোধের জের ধরে ১৬ মে বিকেলে লাল মিয়া তার ভ্যানে করে ধান ভাঙ্গিয়ে বাড়িতে ফেরার পথে ঘোড়া মার্কেটের সামনে পৌছালে প্রতিপক্ষ আব্দুল জলিল ওরফে জেলু মিয়া তার সঙ্গে বাবলু মিয়া, আব্দুল করিম ও কামরুলকে নিয়ে লাল মিয়ার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় বাঁশের লাঠি ও কাঠ দিয়ে লাল মিয়াকে পিটিয়ে গুরুত্বর আহত করা হয়। মারধরের বিষয়টি জানতে পেরে লাল মিয়ার স্ত্রী ও দুই মেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে তাদেরকেও মারধর করা হয়। পরে লাল মিয়াকে উদ্ধার করে পাশের উপজেলা বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
আহত ভুক্তভোগী লাল মিয়ার স্ত্রী বাতাসি বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী ধান ভাঙ্গিয়ে ভ্যানে করে চাউল নিয়ে বাড়িতে ফিরছিলেন। এসময় ঘোড়া মার্কেটের সামনে আসলে জেলু মিয়া তার সঙ্গে বাবলু মিয়া, আব্দুল করিম ও কামরুলকে নিয়ে আমার স্বামীর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। আমার স্বামীকে বেধমভাবে পিটানো হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখমের সৃষ্টি হয়েছে। হামলার সময় চাউলসহ ভ্যান গাড়িটি রেখে দিয়েছে জেলু তার লোকজনে। আমার স্বামীকে হামলার ঘটনায় জড়িত সকলের শাস্তি দাবি করছি।’
আহত লাল মিয়ার মেয়ে তানিয়া আক্তার বলেন, ‘আহতাবস্থায় বাবাকে নিয়ে সখীপুর হাসপাতালে যাওয়ার সময় জেলুর লোকজন বাধা দেয়। পরে বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বিষয়টি নিয়ে সখীপুর থানায় অভিযোগ দিতে গেলেও তারা বাধা দেয়।’
আহত লাল মিয়া বলেন, ‘জেলু মিয়া বেআইনিভাবে আমার জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। জেলু মিয়ার পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় মাতাব্বরদের অনেকেই তার পক্ষ নিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আদালতে একাধিক মামলা রয়েছে। আমি হাসপাতালের চিকিৎৎসা নিচ্ছি। হামলাকারীদের শাস্তি দাবি করছি।’
এদিকে, অভিযুক্ত জেলু মিয়ার ফুফাত ভাই ও আব্দুল করিমের আপন ছোট ভাই জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘জেলু মিয়ার সঙ্গে লাল মিয়ার দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। ওইদিন লাল মিয়া ভ্যান নিয়ে যাওয়ার সময় আমার ফুফু ও জেলুর সাথে কথাকাটাকাটি হয়। এসময় লাল মিয়া তার ভ্যানে থাকা লাঠি দিয়ে ভারি দেয়। এঘটনায় জেলুসহ এ পক্ষের তিনজন আহত হয়েছে। লাল মিয়ার ভ্যান ও ভ্যানে থাকা চাউল স্থানীয় ইউপি সদস্যের হেফাজতে রয়েছে। ’
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার সালিশী বৈঠকে বসা হয়েছিল। ঘটনার দিনও সালিশী বৈঠকে বসার কথা ছিল, কিন্তু লাল মিয়া উপস্থিত হয়নি। লাল মিয়ার স্ত্রী সন্তানরা উপস্থিত ছিল। পরে জমি পরিমাপ করা হয়। এরপর বিকেলে লাল মিয়া ও জেলু মিয়ার সাথে মারামারি হয়েছে। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে।’
বাসাইলসংবাদ, ১৯ মে, ২০২৬ /একেবি
সকলের অবগতির জন্য নিউজটি শেয়ার করুন




