
বাসাইল সংবাদ: শনিবার, ১৩ মে, ২০১৭:

নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রেমিকের দেয়া বিয়ের প্রতিশ্রুতি পুরণের দাবিতে প্রেমিক যুবলীগ নেতার বাড়িতে কলেজ ছাত্রী পারুলের অনশনের আজ(১৩মে) পঞ্চম দিন চলছে। প্রেমিকসহ তার পরিবারের কেউ পাত্তা দিচ্ছেন না মেয়েটিকে বলে তার অভিযোগ। বাসাইল থানা পুলিশও মামলা নিচ্ছে না এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাকে বাড়ি থেকে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে প্রেমিকা পারুল অভিযোগ করেন।
যতদিন পর্যন্ত শাকিল তাকে বিয়ে না করবে ততদিন অপেক্ষা করবে এবং বিয়ে না করা পর্যন্ত বাড়ি থেকে বের হবে না বলে পারুল জানান। এ ঘটনায় ওই এলাকার চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আশ পাশের এলাকার লোকজন মেয়েটিকে দেখার জন্য প্রতিদিন এসে ভির জমায়। ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার ফুলকি পশ্চিমপাড়া গ্রামে।
ঘটনার বর্ণনায় জানা যায়, ফুলকি পশ্চিমপাড়ার এমডি মাসুদ রানা মান্নানের ছেলে উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সদস্য শাকিল রানা সচিব ফেসবুকের মাধ্যমে দীর্ঘ আড়াই বছর পূর্বে সখীপুর উপজেলার হতেয়া গ্রামের সিদ্দিকুর রহমান মাস্টারের মেয়ে করটিয়া সা’দত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারন ইতিহাস বিভাগের চুড়ান্ত পর্বের ছাত্রী পারুল আক্তারের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। ফেসবুক ও মোবাইল ফোনে দীর্ঘদিন কথোপকথনের পর গত এক বছর পূর্বে তাদের সাথে স্বাক্ষাৎ হয়। স্বাক্ষাতের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক আরও গভীর হয়। প্রেমিক শাকিল রানার প্ররোচনায় মেয়েটি তার প্রতি দূর্বল হয়ে পড়ে। মেয়েটির দাবী এক পর্যায়ে শাকিল রানা তাকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ডেটিংএ নিয়ে যায়। এর ধারাবাহিকতায় শাকিল মেয়েটিকে দ্রুত বিয়ে করার প্রলোভন দেখিয়ে স্ত্রীর পরিচয়ে ঢাকার আবাসিক হোটেলে নিয়ে গিয়ে মেয়েটির সাথে অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক হাসিল করে বলে পারুলের দাবি। এর পর বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে দৈহিক মেলামেশারও অভিযোগ করেন মেয়েটি। এসব ঘটনার প্রমানাদী মেয়েটির কাছে আছে বলে দাবি করেন। সম্প্রতি শাকিলের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পারুল বিয়ে করার কথা বললে, শাকিল তা অস্বীকার করে। শাকিলের এমন প্রতারনামূলক সিদ্ধান্তের কথায় সর্বস্ব হারানো মেয়েটির মাথায় যেন বাজ পড়ে। এমতাবস্থায় মেয়েটি কোন উপায়ান্তর না পেয়ে গত ৮ মে (সোমবার) সকাল ৭ টার দিকে শাকিলের বাড়িতে অবস্থান নিতে বাধ্য হয় বলে জানান পারুল।
ফুলকি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, গত ৯মে (মঙ্গলবার) সকাল ১০টায় উভয় পক্ষের অভিভাবকদের ঘটনাস্থলে হাজির হওয়ার জন্য বলা হয়। পারুলের লোকজন উপস্থিত থাকলেও শাকিল ও তার পক্ষের লোকজন উপস্থিত না হওয়ায় ঘটনার কোন শুরাহা করা যায়নি। এ ঘটনা সমাধানের জন্য বিভিন্ন তারিখও দেয়া হয় কিন্তু ছেলে পক্ষের কোন লোকজন উপস্থিত হয়নি।
এ ব্যাপারে অনশনরত তরুণী পারুল বলেন, আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শাকিল আমার সবকিছু লুটে নিয়েছে, সে আমাকে বিয়ে না করা পর্যন্ত আমি ওর জন্য অপেক্ষা করেই যাবো এবং বাড়ি থেকে বের হবো না। পারুল আরও বলেন, এঘটনায় বাসাইল থানায় আমার পরিবার মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেননি। পুলিশ টাঙ্গাইল কোর্টে মামলা করার কথা বলে চলে যাইতে বলে। আমি এখন কোর্টে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
এদিকে অভিযুক্ত শাকিলের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে সে পারুলকে বিয়ে না করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে। মাত্র তিন মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে পারুলের সাথে আমার পরিচয় হয়েছে, প্রেমের মতো কোন সম্পর্ক তৈরি হয়নি, কোন একটি চক্র আমাকে ফাঁসানোর জন্য মেয়েটিকে আমার পিছনে লেলিয়ে দিয়েছে।
এব্যাপারে বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরুল ইসলাম বলেন, এঘটনায় আমার কাছে কেউ কোন অভিযোগ করতে আসেনি। অভিযোগ আসলে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) নাফিসা আক্তার ১২ মে মেয়েটিকে দেখতে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
বাসাইল সংবাদ/একে
সকলের অবগতির জন্য অনুগ্রহ পূর্বক নিউজটি শেয়ার করুন




