
মোজাম্মেল হক সজল :

টাঙ্গাইলের সখীপুরে মুক্তিযুদ্ধের শপথ স্তম্ভের পাশে ভূমি অফিস নির্মাণ না করার দাবী তুলেছে মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের সন্তানরা। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ গমাধ্যম ছবি ও অনুভূতি ব্যক্ত করে প্রতিবাদ জানিয়েছে জেলা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের নেতা-কর্মী এবং সন্তানরা। মুহূর্তের মধ্যেই তা জানান দিয়েছে সখীপুর তথা দেশ বিদেশে। তাঁরা রাস্তা ঘাটে অবস্থান না নিয়ে অভিনব কৌশলে শান্তিপূর্ণভাবে তাঁদের দাবী জানিয়েছেন। এজন্যই বলছি শাবাশ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা শাবাশ। মুক্তিযুদ্ধ ও যোদ্ধা আমাদের আজন্ম অহংকার। বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত স্থান, স্থাপনা সংরক্ষণ করে মুক্তিযোদ্ধাদের যোগ্য সম্মান দিয়ে যাচ্ছেন। মুক্তিযুদ্ধ ও যোদ্ধা একদিনে অর্জন হয়নি। রক্ত, ইজ্জত ও তাজা প্রাণের বিনিময়ে এ অর্জন। ইতিহাসের পাতায় পাতায় লেখা আছে সেই নয় মাসের দীর্ঘ ইতিহাস। সেই ইতিহাসের অতল স্পর্শ করা অন্যতম এক সূর্য পুরুষ বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম। স্বাধীনতা যুদ্ধে তাঁর নাম অনুসারে গঠন করেন বিশাল এক বাহিনী। তার নাম “কাদেরিয়া বাহিনী”। সেই বাহিনীতে যোগ দেন কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, যুবক শ্রেণির হাজার হাজার জনতা। ১৯৭১ সালের ১০ জুন তাঁরা শপথ নেয় উপজেলার বহেড়াতৈল এলাকায়। কুরআন, বাইবেল, গীতা স্পর্শ করে তাঁরা শপথ নেয় এ দেশ স্বাধীন করে তবেই-না বাড়ি ফিরবে। যুদ্ধ প্রস্তুতির ঐতিহাসিক স্থান বহেড়াতৈল। স্মৃতি বিজড়িত বহেড়াতৈলে ১৯৯৬ সালে একটি শপথ স্তম্ভ নির্মাণ করতে উদ্যোগ নেয় তৎকালীন সাংসদ কাদেরিয়া বাহিনীর প্রধান বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম। মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী প্রজন্মের চেতনার নিদর্শন শপথ স্তম্ভটি এখনো অসম্পূর্ণ। সম্প্রতি তার পাশে নির্মাণ করা হচ্ছে জনগুরুত্বপূর্ণ একটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের পাকা ভবন।

৪২ লক্ষ টাকা ব্যায়ে নির্মিত হচ্ছে এ ভূমি অফিস। শপথ স্তম্ভের পাশে এটি নির্মাণ করায় যতো আপত্তি। আপত্তি তুলেছ মুক্তিযোদ্ধারা ও তাঁদের সন্তানরা। তাঁদের দাবী যুক্তিক মনে করে তাতে সমর্থন দিয়েছে সাধারণ মানুষ। এই ভূমি অফিসে থাকবে আমাদের লক্ষ লক্ষ টাকার সম্পত্তির কাগজ। জমি জমার দলিলপত্র গুলো সংরক্ষণের নিশ্চিত নিরাপত্তার প্রয়োজনে নির্মাণ করা হচ্ছে এই ভূমি অফিস। সরকারি জমিতে সরকারি অর্থায়নে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের অফিস নির্মাণ হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ইচ্ছে করলে শপথ স্তম্ভের পাশে ভূমি অফিস নির্মাণ নাও করতে পারে। প্রশাসনের একটি সিদ্ধান্তই পারে মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে। শপথ স্তম্ভের পাশে ভূমি অফিস নির্মাণ করলে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতা পরবর্তী প্রজন্ম কষ্ট পাবে। শপথ স্তম্ভের সৌন্দর্য ব্যাহত হবে। জনগণের সরকার ও জন বান্ধব প্রশাসন জনগণের প্রয়োজনে যেকোন সময় যেকোন সিদ্ধান্ত নিতে পারে। পুনরায় জনমত ও জনপ্রতিনিধিদের মতামত নিয়ে ভূমি অফিসের জায়গা নির্ধারন হবে বলে সময়ের প্রত্যাশা।
লেখক: প্রভাষক, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক কর্মী।
…বাসাইলসংবাদ/ ২০ জুন, ২০২০ /একেবি
সকলের অবগতির জন্য নিউজটি শেয়ার করুন




