
বাসাইলসংবাদ: বৃহস্পতিবার, ৩১ মে, ২০১৮:

নিজস্ব প্রতিবেদক:
টাঙ্গাইলের সখীপুর-কচুয়া-সাগরদিঘী সড়কের সখীপুর অংশের খাদ্য গুদামের কাছে একটি মালবাহী ট্রাক দেবে যাওয়ায় বুধবার বিকেল থেকে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সখীপুর সদর থেকে গারোবাজার পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে সড়কটির কয়েকটি অংশে বড় ধরণের খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় সামান্য বৃষ্টি হলেই যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ওই সড়কের তিনটি স্থানে মাত্র ৫০০ মিটার সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। তিনটি স্থানে পানি জমে খাদে পরিণত হয়েছে। ফলে প্রায় প্রতিদিনই বাস ট্রাকসহ নানা যানবাহন আটকে পড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে ওই সড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ ভুক্তভোগীরা। তবে ওই অংশটুকু সংস্কারে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কর্তৃপক্ষের দীর্ঘ উদাসীনতাকেই দায়ি করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বুধবার বিকেলে একটি মালবাহী ট্রাক সড়কের গর্তে দেবে পড়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯ টা পর্যন্ত সড়কে দেবে যাওয়া ট্রাকটি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়নি। সখীপুর উপজেলা সড়ক হয়ে জেলখানা-সৌখিন মোড় দিয়ে বিকল্প সড়কে দুইদিন ধরে যান চলাচল করছে। ওই সড়কের জেলখানা হতে সৌখিন মোড়ের কয়েকটি স্থানে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। এ সড়কেও ঝুঁকি নিয়ে বাস-ট্রাকসহ যানবাহন চলাচল করছে।
স্থানীয় এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৪ মে সখীপুর থেকে গারোবাজার ৩০ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে আগামী ৫ বছর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকার কাজটি পায় ‘হক ইন্টারন্যাশনাল’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরে ২০ জুন ঠিকাদারের সঙ্গে এলজিইডির চুক্তি হয়। ঠিকাদার টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্য ও সখীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া বাদল। গত কয়েকদিন আগে ওই সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ করা হলেও সখীপুর পৌরসভার মোখতার ফোয়ারা চত্বর থেকে খাদ্য গুদাম পর্যন্ত ১৭০ মিটার, বড়চওনা বাজারে ২৫০ মিটার এবং সাগরদিঘী বাজারের ৮০ মিটার সড়কের সংস্কার কাজ বাকি রাখেন।
এ বিষয়ে জানতে ঠিকাদার গোলাম কিবরিয়া বাদলের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘পানি জমে থাকার কারণে সড়কের ওই অংশটুকু বারবার ভাঙনের কবলে পড়ে। আরসিসি ঢালাই করা হবে জানিয়ে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ খানাখন্দকে ভরা ওই অংশের কাজ করতে নিষেধ করেছেন। আরসিসি করার বিষয়ে এখনো কোনো নির্দেশনা পাইনি। তবে কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণেই বর্তমানে সড়কের ওই তিনটি অংশে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।’
এদিকে সড়কে তৈরি হওয়া বড় বড় গর্তে প্রতিদিন বাস-ট্রাকসহ অন্যান্য ভারী যানবাহন আটকে গিয়ে যানজট তৈরি হচ্ছে। দুর্ভোগে পড়ছেন যাত্রীরা। টাঙ্গাইলের সখীপুর, ঘাটাইল, মধুপুর, ময়মনসিংহের ভালুকা এবং ফুলবাড়িয়া উপজেলার একাংশের মানুষকে রাজধানী ঢাকায় যাতায়াত করতে ওই সড়কটি ব্যবহার করতে হয়। এছাড়াও টাঙ্গাইল, বাসাইল, সখীপুর, মির্জাপুর, কালিহাতীসহ কয়েকটি উপজেলার মানুষ ওই সড়ক দিয়ে ময়মনসিংহে যাতায়াত করেন। সড়কের সামান্য অংশের ভাঙনের কারণে যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ওই সড়কের ট্রাক চালক রাজু আহমেদ বলেন, সড়কের সবটুকু ভালো হলেও আমরা মাত্র এক জায়গায় আটকা পড়ে থাকি। তিনি প্রশ্ন করেন, তাহলে অধিকাংশ সড়ক ভালো থাকার লাভ কি? ওই গর্তে প্রতিদিনই কোনো না-কোনো যানবাহনের চাকা পড়ে আটকে যাচ্ছে; বিকল হচ্ছে যানবাহন। ঘন্টার পর ঘন্টা আটকে থাকতে হচ্ছে অথবা বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। যা আমাদের জন্য ব্যয়বহুল এবং কষ্টের।
সখীপুর উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাহাদ কুদ্দুস বলেন, ‘তিন স্থানে মোট ৫০০ মিটার ভাঙা অংশ আরসিসি ঢালাই করার জন্য এলজিইডি’র ঢাকার হেডকোয়ার্টারে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশা করছি খুব শিগগিরই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন পওয়া যাবে। তবে ওই অংশটুকুতে যানবাহন চলাচল সচল রাখতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকেও বলা হয়েছে।’
বাসাইলসংবাদ/একে




