
নিজস্ব প্রতিবেদক : ধর্ষণ মামলায় হাইকোর্ট থেকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন পেয়েছেন টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব গোলাম কিবরিয়া বড় মনির। এ ছাড়া তার স্ত্রী নিগার আফতাবকেও আগাম জামিন দিয়েছেন উচ্চ আদালত।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে বিচারপতি ইকবাল কবির ও বিচারপতি এ কে এম রবিউল হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ তাদের চার সপ্তাহের আগাম জামিন মঞ্জুর করেন।
গত ১৬ এপ্রিল গোলাম কিবরিয়া বড় মনির ও তার স্ত্রী হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেন।
সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী গোলাম সরোয়ার জানান, হাইকোর্টে আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানি শেষে বিচারক বড় মনিরের চার সপ্তাহের আগাম জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। চার সপ্তাহ পর নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে তাকে।
টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনিরের বড় ভাই গোলাম কিবরিয়া বড় মনি।
গোলাম কিবরিয়ার আইনজীবী মো. এহসান হাবিব জানান, গোলাম কিবরিয়া ও তার স্ত্রী নিগার আফতাবকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছেন আদালত। চার সপ্তাহ শেষ হওয়ায় আগেই তাদের টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করতে হবে।
গোলাম কিবরিয়ার পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন ফকির, সাবেক সহসভাপতি শহিদুল ইসলামসহ কয়েকজন আইনজীবী।
উল্লেখ্য, ৫ এপ্রিল রাতে এক কিশোরী নিজে বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, বড় মনির তাদের আত্মীয় এবং পূর্ব পরিচিত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের কথা হতো। ওই কিশোরীর ভাইয়ের সঙ্গে জমি নিয়ে সমস্যা হয়। এ কথা বড় মনিরকে জানানোর পর তিনি সমস্যা সমাধান করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। বড় মনির পরে গত ১৭ ডিসেম্বর ওই কিশোরীকে শহরের আদালত পাড়ায় নিজের বাড়ির পাশে একটি ১০তলা ভবনের চতুর্থ তলার ফ্লাটে যেতে বলেন। সেখানে যাওয়ার পর মেয়েটিকে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেন তিনি। তাতে রাজি না হওয়ায় মেয়েটির মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা পর বড় মনির কক্ষে ঢুকে মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন এবং ছবি তুলে রাখেন। ধর্ষণ শেষে কাউকে এ কথা জানাতে নিষেধ করেন এবং কাউকে জানালে মেরে ফেলার হুমকি দেন তিনি। তারপর ছবি প্রকাশের ভয় দেখিয়ে প্রায়ই মেয়েটিকে ধর্ষণ করতেন বড় মনির।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এক পর্যায়ে মেয়েটি অন্তঃসত্তা হয়ে পড়ে। এ কথা জানালে বড় মনির তাকে গর্ভপাত করার জন্য চাপ দিতে থাকেন। কিন্তু সন্তান নষ্ট করতে রাজি না হওয়ায় গত ২৯ মার্চ রাত ৮টার দিকে বড় মনির মেয়েটিকে আদালত পাড়ায় তার শ্বশুরবাড়িতে তুলে নিয়ে যান। সেখানে গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। তাতে রাজি না হওয়ায় ওই বাসার একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হয় মেয়েটিকে। পরে তাকে সেখানে আবারও ধর্ষণ করেন বড় মনির।
মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা বলে প্রমাণ পেয়েছে মেডিকেল বোর্ড। ৬ এপ্রিল আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন ভুক্তভোগী ওই কিশোরী।
বাসাইলসংবাদ, ১৯ এপ্রিল, ২০২৩ / একেবি
সকলের অবগতির জন্য নিউজটি শেয়ার করুন




