
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ আজ ১১ ডিসেম্বর। এইদিনে টাঙ্গাইলে উত্তোলন হয় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। টাঙ্গাইল শহর সম্পূর্ণ হানাদারমুক্ত হয়। হাজার হাজার মানুষ নেমে আসে রাস্তায়। জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে টাঙ্গাইল। ৪৮ বছর আগে এই দিনটি টাঙ্গাইলবাসীর জন্য এনেছিল বিজয়ের বার্তা। ১৯৭১ সালে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর এই দিনে পাক হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পন ও পলায়নের মধ্য দিয়ে পাক হানাদার মুক্ত হয়েছিল। সারা রাত মুক্তিযোদ্ধাদের সারাশি আক্রমণ ও প্রচন্ড গোলাগুলিতে বিনিদ্র রাত কাটায় শহর ও শহরতলির লোকজন। অবশেষে সেই কাঙ্খিত মুহুর্তটি ঘুনিয়ে এলো। ধ্বংস স্তুপের মধ্যে দিয়ে স্বজন হারাদের বিয়োগ ব্যথা ভুলে হাজার হাজার উৎফুল্ল জনতা রাস্তায় নেমে প্রাণের স্পন্দন আর মুক্তির আনন্দে নবজন্মের সেই মুহুর্তটিকে সবাই মিলে স্মরণীয় করে তুলেন। স্লোগান ধরেন জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। যুদ্ধকালীন সময়ে টাঙ্গাইলের অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসিকতাপূর্ণ যুদ্ধের কাহিনী দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছিল। বীর মুক্তিযোদ্ধা বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে গঠিত ‘কাদেরিয়া বাহিনীর’ বীরত্বের কথা দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে চিরস্মরণীয়।

এপ্রিল থেকে ৮ডিসেম্বর পর্যন্ত টাঙ্গাইল, জামালপুর, শেরপুর, কিশোরগঞ্জ, সিলেট, সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় বিশাল কাদেরিয়া বাহিনী যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে পর্যদস্ত করে পাক সেনাদের। এসব যুদ্ধে ৩ শতাধিক দেশপ্রেমিক অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। মুক্তিযোদ্ধাদের টাঙ্গাইল অঞ্চলের প্রধান বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী যোদ্ধাদের নিয়ে সখীপুরের সহানন্দা ও কীর্ত্তনখোলায় গড়ে তুলের দুর্ভেদ্য দূর্গ। এরপর এক আক্রমণের মুখে পাক সেনারা গুটিয়ে জেলার অন্যান্য স্থান থেকে এসে যখন টাঙ্গাইল শহরে অবস্থান নেয় তখন উত্তর ও দক্ষিণ টাঙ্গাইল ছিল সম্পূর্ণ মুক্তিবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। ৮ ডিসেম্বর পরিকল্পনা করা হয় টাঙ্গাইল আক্রমণের। মিত্র বাহিনীর সঙ্গে সংর্ঘষ হয় পাক সেনাদের পুংলি নামক স্থানে। অবস্থা বেগতিক দেখে প্রাণ ভয়ে পাক সেনারা সারারাত ধরে টাঙ্গাইল ছেড়ে ঢাকার দিকে পালায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী চারদিক থেকে সারাশি আক্রমণ চালিয়ে পাক সেনাদের টাঙ্গাইল থেকে বিতারিত করতে সক্ষম হয় কাদেরিয়া বাহিনী। ১০ ডিসেম্বর রাতে টাঙ্গাইল প্রবেশ করেন কমান্ডার আব্দুর রাজ্জাক ভোলা।
১১ ডিসেম্বর সকালে কমান্ডার বায়োজিদ ও খন্দকার আনোয়ার টাঙ্গাইল পৌঁছান। আসেন বিগ্রেডিয়ার ফজলুর রহমান। সার্কিট হাউজে অবস্থানরত পাক সেনাদের কাদের সিদ্দিকীর কাছে আত্মসমর্পনের মধ্যে দিয়ে সম্পূর্নভাবে মুক্ত হয় টাঙ্গাইল। স্বাধীনতার পর থেকে এ দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করে থাকে টাঙ্গাইলবাসী।
এ উপলক্ষ্যে টাঙ্গাইল পৌরসভা ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ দিনব্যাপী হানাদারমুক্ত দিবস ও বিজয় দিবস উদযাপনের আয়োজন করেছে। বুধবার সকাল ১১টার সময় বর্ণাঢ্য শোভাাত্রার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক (এমপি), বিশেষ অতিথি থাকবেন টাঙ্গাইল সদর-৫ আসনের সাংসদ আলহাজ্ব মোঃ ছানোয়ার হোসেন এমপি ও দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক পীর হাবিবুর রহমান। আলোচক থাকবেন টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আশরাফউজ্জামান স্মৃতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার আনোয়ার হোসেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করবেন টাঙ্গাইল হানাদারমুক্ত ও বিজয় দিবস উদযাপন পরিষদের আহবায়ক এবং টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র জামিলুর রহমান মিরন। প্রথম দিনের মতো অন্যান্য দিনগুলোতেও জেলার বিভিন্ন আসনের সাংসদ ও আলোচকরা উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া দেশবরেণ্য রাজনীতিক, বুদ্ধিজীবি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সম্মানীত ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে আলোচনা সভা এবং দেশ বিদেশী প্রখ্যাত শিল্পীবৃন্দের অংশগ্রহণে সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
…বাসাইলসংবাদ/একেবি




