
নজরুল ইসলাম নাহিদ :

এক দিন হতে ১০০বছরের বৃদ্ধ পর্যন্ত কেউ রক্ষা পাচ্ছে না করোনার থাবা থেকে, তার যেন নেই বিন্দু মাত্র মায়া, মমতা, মানছে না কোনো নিয়ম। রক্ষা পাচ্ছে না ডাক্তার, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ মেডিকেল প্রফেশন-এর কোনো ব্যক্তি, নিস্তার নেই পার্লামেন্টের সদস্য এমপি, মন্ত্রী, রাজনীতিবিদ, প্রশাসন, সাংবাদিক ও বিশ্বের পরাশক্তি চীন, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কোরিয়াসহ সবারই যেন এক নীরব আত্মসমর্পণ নীরব ঘাতক এই করোনাতে, এ যেন এক অগোষিত তৃতীয় বিশ্বযুদ্দ্ব।
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বন্ধন পিতা-মাতার সাথে তার সন্তানের করোনা যেন এই পবিত্র বন্ধনটাও চিনতে সহজ করে দিয়েছে, করোনার ভয়ে সন্তান তার মাকে জঙ্গলের মধ্যে ফেলে আসতেও যেন দুইবার চিন্তা করেননি। ছেলে তার বাবার লাশ হাসপাতালে রেখে চলে যাওয়ার নজির ও কম নয়। কিন্তু করোনা কাবু করতে পারেনি ঐসব নোংরা মন মানসিকতার কিছু মানুষকে যারা নূন্যতম লোভ সামলাতে পারেনা এই বিপর্যয়ের মধ্যেও অসহায় মানুষের হক আত্মসাৎ না করতে তাদের বিবেক একটিবারের জন্যও যেন নারা দেয়নি।
এটি অতি ক্ষুদ্র একটি জীবাণু যা কিনা খালি চুখে দেখা যায় না এমনকি সাধারণ মাইক্রোস্কোপ এর মাধ্যমে দেখা যায় না যাকে দেখার জন্য ইলেক্ট্রন মাইক্রোস্কোপ যন্তের প্রয়োজন হয়। যেহেতু খালি চুখে দেখা যায় না তাই ভয়টা আমাদের সেখানেই, আর এই ভাইরাসটি আমাদের দেহে নাক, মুখ, চোখ-এর মাধ্যমে প্রবেশ করে। এছাড়াও একজনের কাছ থেকে আরেকজনের কাছে এটা হাঁচি, কাশি, থুথুর মাধ্যমেও ছড়াতে পারে। আর এইজন্যই আমাদের প্রটেকশন নেওয়াটা জরুরি, কথায় আছে prevention is better than cure, তার মানে করোনার হাত থেকে বাঁচতে প্রটেকশন নাও, অন্যের থেকে দূরে থাকো, এ যেন এক একলা চলো নীতি অবলম্বন করা।
মৃত্যুর ভয় মানুষকে এমনভাবে তারা করছে আমরা যেন মানবিক কাজ টুকুও করতেও কার্পণ্য ভূত করছি। এখন কোনো মানুষ মারা গেলেই হউক সেটা করোনার কোনো লক্ষণ নিয়ে নতুবা না, হউক কাছের কোনো নিকটাত্মীয় অথবা নিজের কোনো আপনজন আমরা তার জানাজা, সৎকার টুকুও করতে চাচ্ছি না। ধরেই নিই জানাজাতে অংশগ্রহণ করলেই বুজি ভাইরাস আমার মধ্যে চলে আসবে? কিন্তু ভাইরোলজিতে তার সুন্দর সমাধান রয়েছে। ব্যাকটেরিয়া থেকে ভাইরাসের মধ্যে একটা অন্যতম পার্থক্য হলো ব্যাকটেরিয়া যেমন নুংড়া আবর্জনা পঁচা বাসি খাবার ও পানির মধ্যে এরা জন্ম নিতে পারে ও বেঁচে থাকতে পারে। সেখান থেকে মানব দেহে প্রবেশ করে রোগ তৈরী করে কিন্তু ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ভাইরাসকে বাঁচতে হলে জীবিত কোনো কোষ বা মাংস পিন্ডের দরকার হয়, সেটা হতে পারে মানব কোষ অথবা পশু পাখি, আর তাই ভাইরাস মৃত কোনো কোষ বা মাংস পিন্ডের মধ্যে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে সেই নির্দিষ্ট সময় কাল হলো ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা আর এই নিৰ্দিষ্ট সময় পরে ওই মৃত কোষ বা মাংস পিন্ড থেকে সংক্রামক হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। কিন্তু এই সময়টা নিয়েও আছে মতপার্থর্ক্য আর বিভ্রান্তিটা সেখানেই। কিন্তু এই ভাইরাসটি অন্য সব ভাইরাস থেকে অপেক্ষাকৃত ভারী প্রকৃতির হওয়ায় হাঁসি বা কাশি দেওয়ার পর এটা বেশি দূর পর্যন্ত যেতে পারে না সেই দূরত্বটা হচ্ছে ৩ ফুট অথবা ১ মিটার। আর আমরা যদি এই দূরত্বটা মেনে কার্য সম্পাদন করি তাহলেও সমস্যা সমাধানের অনেকটা কাছেই চলে যেতে পারি।
করোনাতে ভয়ের ব্যাপারটা হলো এই ভাইরাসের জন্য এখন পর্যন্ত কোনো দেশ বা বিজ্ঞানী সুনির্ধিষ্ট কোনো এন্টি ভাইরাল ড্রাগ আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়নি তাই কোনো দেশেই সুনির্ধিষ্ট কোনো চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই। এক, এক দেশ তার নিজস্ব টেকনিক নিজস্ব চিকিৎসা পদ্দতি অবলম্বন করে রুগীদের বাঁচানোর জন্য প্রাণপন চেষ্টা করে যাচ্ছে। তাই ভাইরাস থেকে নিজেকে বাঁচানোর উপায় একটাই ঘরে থাকুন, ঘরে থাকুন আর ঘরে থাকুন।
ভাইরাস এর জেনোম সিকোয়েন্স বার বার পরিবর্তনের মাধ্যমে ভাইরাসের প্যাথোজেনিসিটির প্রকুবটাও কমতে থাকে হয়তো একটা সময় এফেক্টেড এর হার কমতে শুরু করবে, তাই আমরা নিরাশ না হই, রাত যত গভীর হয় ভোর তত নিকটে আসে। আমরা আমাদের সরকারের দেওয়া নিয়ম কানুন মেনে চলবো নিজেকে করোনার হাত থেকে বাঁচাবো আর নিজে বাচঁলেই বাঁচবে পরিবার বাঁচবে দেশ।
মাইক্রোবায়োলোজিস্ট
ল্যাব ইনচার্জ,
লিন্নাস মেডিকেল সেন্টার, মানামা, বাহরাইন।
…বাসাইলসংবাদ/ ০৪ মে, ২০২০ /একেবি
সকলের অবগতির জন্য নিউজটি শেয়ার করুন




