
নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইলের বাসাইল সাহাপাড়া মধ্যবাড়ী পূজামণ্ডপে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ঢল নেমেছে। এটি টাঙ্গাইল জেলার মধ্য সব চেয়ে বড় ও আকর্ষণীয় বলে দাবি দর্শনার্থী ও বাসাইল সাহাপাড়া মধ্যবাড়ী পূজামণ্ডপের আয়োজকদের।

শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমীতে বাসাইল সাহাপাড়া মধ্যবাড়ী মণ্ডপে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ঢল নামতে দেখা গেছে। ঢাকের বাদ্যির সঙ্গে মন্ত্রপাঠে আনন্দময়ীকে অঞ্জলী দিচ্ছেন ভক্তরা। নবমী তিথিতে পূজা ও সন্ধ্যা আরতি শেষে বিদায়ের সুর বাজতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার বিদায় নিবেন মা দূর্গা। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ৫দিনের দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ সুনীল রায় স্বপন বলেন, ‘বাসাইল উপজেলার মানুষ অনেক ভালো মনের। দুর্গোৎসবে তারা সবাই সহযোগিতা করেন। এখন পর্যন্ত কোনো মণ্ডপে সমস্যা হয়নি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সাংবাদিকসহ সাধারণ মানুষ, উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমাদেরকে সহযোগিতা করছে। ’
তিনি আরও বলেন, ‘বাসাইল সাহাপাড়া মধ্যবাড়ীর মণ্ডপ জেলার সকল মণ্ডপের মধ্যে সব চেয়ে সুন্দর ও আকর্ষণীয়। টাঙ্গাইল জেলার সকল উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ঢল নেমেছে এই মণ্ডপে। এত দর্শনার্থী এসেছে, জায়গা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বাসাইল সাহাপাড়া মধ্যবাড়ীর মণ্ডপটি এরআগেও জেলায় দুই বার প্রথম হয়েছে। আশা করছি এবারও জেলায় প্রথম হবে।’
ভূঞাপুর থেকে আসা দর্শনার্থী অভিজিৎ ঘোষ বলেন, ‘বাসাইল সাহাপাড়া মধ্যবাড়ীটির মণ্ডপ দেখতে প্রায় প্রতি বছরই আসি। এবারও এসেছি। ইতোমধ্যেই জেলার বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরেছি। কিন্তু এই মণ্ডপটি সব চেয়ে ভালো লেগেছে। এবারও জেলার মধ্যে এই মণ্ডপটি প্রথম হওয়ার যোগ্যতা রাখে।’
জানা গেছে, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দুর্গোৎসবটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করতে জেলা প্রশাসক শরীফা হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সঞ্জয় কুমার মহন্ত, জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সেনাবাহিনী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. আকলিমা বেগম ও বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন।
বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. আকলিমা বেগম বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোথাও সমস্যা হয়নি। শান্তিপূর্ণভাবেই দুর্গোৎসব পালন করছে তারা। মণ্ডপ দেখতে বাসাইল উপজেলায় অসংখ্য ভক্ত ও দর্শনার্থী এসেছে। শান্তিপূর্ণভাবে পূজা শেষ করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তাদেরকে সকল প্রকার সহযোগিতা করা হচ্ছে।’
এদিকে, কৃষক শ্রমিক জনতালীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, জেলা জামায়াতে ইসলামীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারী অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম খান, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন আল জাহাঙ্গীর, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী শহীদুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নূরনবী আবু হায়াত খান নবু, উপজেলা পৌর বিএনপির সভাপতি আক্তারুজ্জান তুহিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ পিন্টু, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আফজাল হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেন।
প্রসঙ্গত, বাসাইল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এবার ৬৮টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
বাসাইলসংবাদ, ০২ অক্টোবর, ২০২৫ /একেবি
সকলের অবগতির জন্য নিউজটি শেয়ার করুন






