
বাসাইল সংবাদ: রোববার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৬:

এনায়েত করিম বিজয়:
টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার ৫নং কাশিল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্ধের পর নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পাড় করছে প্রার্থীরা। এ ইউনিয়নে গত পঞ্চম ধাপে ২৮ মে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। সীমানা জটিলতা দেখিয়ে হাইকোর্টে রীট পিটিশন করায় প্রতীক বরাদ্ধের পূর্ব মুহুর্তে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশে নির্বাচন কমিশন এ ইউনিয়নের নির্বাচন স্থগিত করেন।
প্রায় ৫ মাস পর সারাদেশে স্থগিতকৃত এ ইউনিয়ন সমূহে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষনা দেন নির্বাচন কমিশন। নতুন তফশিল অনুযায়ি আগামী ৩১ অক্টোবর এ ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আসন্ন এ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা কাক-ডাকা ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত নাওয়া খাওয়া ভুলে, আরাম, আয়েশ বিসর্জন দিয়ে ভোটারদের কাছে টানতে বিরতিহীনভাবে চালিয়ে যাচ্ছে প্রচার-প্রচারণা। ভোট প্রার্থনায় বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন প্রার্থী ও কর্মীরা। ব্যানার, পোস্টার লিফলেটে ছেয়ে গেছে গুটা ইউনিয়নের রাস্তা-ঘাট, হোটেল, রেস্তোরা, দোকানপাট ও রাস্তার মোড়সহ বিভিন্ন স্পট।
প্রার্থী ও সমর্থকরা তাদের নিজ নিজ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন । সেই সাথে মাইকিং প্রচার চলছে সমানতালে। সুর-ছন্দ, গানের তালে, বিভিন্ন কথা ও প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ি ছড়িয়ে চালাচ্ছে প্রচারণা। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা উৎসবের আমেজে ভোট যুদ্ধে অবতীর্ণ হলেও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিরবতা পালন করছে অধিকাংশ ভোটারই । মুলতঃ যথাসময়ে নির্বাচন না হওয়ার কারনেই যেন সাধারণ ভোটাররা হারিয়ে ফেলেছে উৎসাহ। হাট-বাজার চায়ের দোকান, স্কুল-কলেজ,মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। প্রার্থীদের চারত্রিক বৈশিষ্ট্য, তাদের অতীত আমলনামাসহ কোথায় কোন প্রার্থীর অবস্থান কেমন এ নিয়ে চলছে চুল চেরা বিশ্লে¬ষণ।
এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৯জন, সংরক্ষিত (মহিলা ) সদস্য ১০ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৪৬ জন প্রার্থীসহ মোট ৬৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ মনোনীত বাসাইল উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ম আহবায়ক মির্জা রাজিক (নৌকা), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত বাসাইল এমদাদ হামিদা ডিগ্রী কলেজের সাবেক জিএস, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক ও কাশিল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মোঃ রমজান মিয়া (ধানেরশীষ)। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক শামীম মাহমুদ (ঘোড়া),স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকির হোসেন (মোটরসাইকেল), সাইফুল ইসলাম চৌধুরী (আনারস), আলাল উদ্দিন (টেলিফোন), উপজেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক খন্দকার লুৎফর রহমান (চশমা), দেওয়ান শহীদুল ইসলাম তৌহিদুল (রজনীগন্ধা) ও মোঃ বারিকুল ইসলাম (টেবিল ফ্যান)।
সরেজমিন নির্বাচনী মাঠ পর্যবেক্ষণ কালে সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হলেও দলীয় প্রভাবের চেয়ে এলাকা ভিত্তিক নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি রয়েছে। ভোটারদের এ ধারনা থেকে প্রতিয়মান হয় যে, যে এলাকায় প্রার্থীর সংখ্যা কম সে এলাকার প্রার্থীই অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকাবে। এ ইউনিয়নে বড় দুই দলের প্রার্থীর মধ্যে মূল প্রতিদ্বদিন্দ্বতা হবে বলে ধারনা করছেন নির্বাচন বিশ্লেষকরা। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী শামীম মাহমুদ (ঘোড়া) ও জাকির হোসেন (মোটরসাইকেল) প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠ সরগরম করে তুলায় ভোটের লড়াইয়ে বড় দুইদলের প্রার্থীরই চিন্তার কারন হয়ে দাড়িয়েছে। অনেকেই ধারনা করছেন, এলাকা ভিত্তিক ভোট হলে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী মির্জা রাজিক (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী শামীম মাহমুদ (ঘোড়া) ও জাকির হোসেন (মোটরসাইকেল) এর সাথে ভোটের কাটাকাটিতে বাড়তি ফায়দা লুটতে পারে বিএনপি প্রার্থী। এমনটাই ভাবছেন এলাকার সাধারণ ভোটাররা।
আওয়ামীলীগের কোন বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকায় দলের মনোনীত প্রার্থী মির্জা রাজিক অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। অপরদিকে উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহবায়ক খন্দকার লুৎফর রহমান ও উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক শামীম মাহমুদ জোর গণসংযোগ চালিয়ে যাওয়ায় বিএনপি’র দূর্গে চিন্তার কারন হয়ে দাড়িয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনী মুভমেন্টে স্বতন্ত্র প্রার্থী শামীম মাহমুদ (ঘোড়া) ও জাকির হোসেন (মটরসাইকেল) প্রতীক নিয়ে শীর্ষ চারের আলোচনায় উঠে আসছে। অন্যান্য স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও পুরোদমে চালিয়ে চাচ্ছে প্রচারণা।
কাশিল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জমজমাট ভোট যুদ্ধ ও একটি উৎসবমুখর নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতীক্ষায় রয়েছেন ইউনিয়নবাসী। ভোটারদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে কিছুটা আশংকা থাকলেও সৎ ও যোগ্য প্রার্থী বেছে নিতে চান তারা। একমাত্র ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের প্রার্থী ছাড়া অবাধ,সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে শঙ্কিত বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তবে অবাধ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাবৃন্দ।
প্রার্থীদের সাথে আলাপকালে সকলেই প্রায় একই ধরনের বক্তব্য দেন। তারা বলেন জনগন যদি তাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে তাহলে সমাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা, মাদক, দূর্ণীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত ইউনিয়ন গঠনসহ এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করে যাব। তাছাড়া সকল প্রকার সরকারী বরাদ্দের সুসম বন্টনসহ অসহায় গরিব-দুঃখী মানুষের সেবায় নিজেকে আজীবন সম্পৃক্ত রাখব। সর্বপরি ইউনিয়নকে একটি আধুনিক মডেল ইউনিয়নে পরিনত করার প্রত্যয় ব্যাক্ত করেন। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হলে প্রার্থীরা নিজ নিজ বিজয় নিশ্চিত বলে পৃথক পৃথক বিৃতিতে আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।
উপজেলা নির্বাচন অফিন সূত্রে জানা যায় ১০হাজার ১শ ৮৮ জন পুরুষ ও ১১হাজার ৪ জন নারীসহ মোট ২১ হাজার ১’শ ৯২ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে।
বাসাইল সংবাদ/একে




