
বাসাইলসংবাদ: সোমবার, ০৯ এপ্রিল, ২০১৮:

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক জিএম, নবোদয় হাউজিং লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুল মালেক মিঞা ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজিউন)। ৮ এপ্রিল (রোববার) রাত সোয়া একটার দিকে রাজধানীর ল্যাব এইড স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন । মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৬৭ বছর। তিনি এক স্ত্রী ও তিন পুত্রসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। গত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাসাইল-সখীপুর আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রার্থী ছিলেন। মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে সামান্য ভোটের ব্যবধানে হেরে যান। কিন্তু রাজনীতির হাল ছাড়েননি তিনি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়া আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আব্দুল মালেক মিয়া ১৯৫১ সালের ১৪ই আগষ্ট সখীপুর উপজেলার হাতীবান্দা গ্রামে এক সম্ভান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মহগ্রহণ করেন। বাবা মরহুম তোফাজ্জল হোসেন মাতা মরহুমা জোবেদা খানম। বাসাইল উপজেলার কাঞ্চনপুর ঢংপাড়াতেও তার বাড়ি রয়েছে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ (অনার্স), এম.এ (পরিসংখ্যান) পাশ করেন। তিনি ১৯৮৯ সালে ইংল্যান্ডের ওয়ার উইক বিশ্ববিদ্যালয় হইতে অর্থনীতিতে পোষ্ট গ্রাজুয়েশন ডিগ্রি লাভ লাভ করেন। ১৯৭৪ সালে নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা হিসেবে বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে কর্ম জীবন শুরু করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে বিভিন্ন পদমর্যাদায় বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থ, ব্যাংকিং ও মুদ্রা নীতি সংক্রান্ত কর্মকান্ডে নিয়োজিত ছিলেন। ১৯৭৭ সালে “বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ও ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলে সহ-স¤পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন। ১৯৮৫-৮৬ এবং ১৯৮৭-১৯৮৮ সালে “বাংলাদেশ ব্যাংকস্থ” টাঙ্গাইল জেলা সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।এ সময় গরীব মেধাবী ক্ষিার্থীদের বৃত্তি প্রদান, হতদরিদ্র রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থদের সাহায্য সহযোগিতাসহ বিভিন্ন সমাজিক কর্মকান্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা পালন করেন। এ ছাড়াও শিক্ষনুরাগি এই দানবীর নারী শিক্ষা প্রসারে বাসাইল জোবেদা-রুবেয়া মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠাকালে তিনি ব্যাক্তিগত তহবিল থেকে অর্থ দান করে কলেজ প্রতিষ্ঠায় মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।। ১৯৯২ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে “বাংলাদেশ ব্যাংকস্থ বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার কর্মকর্তা/কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। টাঙ্গাইল জেলা সমিতির আজীবন সদস্য ও অন্যতম উপদেষ্টাও ছিলেন তিনি। ১৯৮৩ সালে মোহাম্মদপুর থানাধীন রামচন্দ্রপুর মৌজায় প্রায় ৫০ একর জমি নিয়ে একটি আবাসিক প্রকল্প “নবোদয় বহুমূখী সমবায় সমিতি লিমিটেড” নামের সমবায় সমিতির জন্মলগ্ন থেকে সেক্রেটারীর দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।
তার ৩ ছেলে বি.সি.এস পাস করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে উপ-সচিব হিসেবে কর্মরত আছেন। ছোট ভাই প্রফেসর ডাঃ আব্দুস সামাদ। তিনি দেশের খ্যাতিমান ডাক্তারদের মধ্যে অন্যতম। বর্তমানে ল্যাব এইড স্পেশালাইজড হাসপাতালে কিডনী বিভাগের প্রধান হিসেবে কর্মরত। দীর্ঘ সময় অসুস্থতার সাথে লড়াই করে অবশেষে সকলকে কাদিয়ে এই গুণী মানুষটি চলে যান না ফেরার দেশে। তার মৃত্যুতে বাসাইল-সখিপুরের আওয়ামীলীগসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে নেমে আসে শোকের ছায়া।
৮ এপ্রিল (সোমবার) রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সকাল ৮ টায় রাজধানীর মোহাম্মদপুরের নবোদয় হাউজিং লিমিটেডে সংলগ্ন মাঠে প্রথম, বেলা ২ টায় বাসাইল কেন্দ্রীয় মাঠে তার দ্বিতীয়, বিকেল ৩টায় সখীপুর পিএম পাইলট স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে তৃতীয় ও বাদ আসর তার গ্রামের বাড়ি হাতীবান্ধা তালিমঘর সংলগ্ন মাঠে চতুর্থ নামাজে জানাযা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে। প্রতিটি জানাজায় প্রশাসনিক ব্যাক্তি, জনপ্রতনিধিসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ শরীক হয়ে মরহুমের রূহের মাগফেরাত কামনা করেন।
বাসাইলসংবাদ/একে




