
নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রায় ১৭ বছর পর নিজ জেলা টাঙ্গাইলে বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত হলেন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু। মুক্তির পর এই প্রথম তিনি টাঙ্গাইলে এসে সংবর্ধিত হলেন। এসম তিনি টাঙ্গাইলবাসীকে কাছে পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। শতশত নেতাকর্মী তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে ভিড় করেন। রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে টাঙ্গাইল শহরের পৌর উদ্যানে বিএনপির এই শীর্ষ নেতাকে গণ সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এসময় অনুষ্ঠানস্থল জনস্রোতে পরিণত হয়।

এদিকে, দুপুর থেকেই গণ সংবর্ধনা উপলক্ষে জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে খন্ডখন্ড মিছিল নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে জড়ো হন। এসময় নেতাকর্মীদের পদচারণায় কানায় কানায় ভরে যায় পৌরউদ্যান। অনুস্থানস্থলে জায়গা না পেয়ে পৌরউদ্যানের আশপাশের সড়কেও অবস্থান নিয়ে প্রিয় এই নেতার সংবর্ধনা অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।
একুশে গ্রেনেড হামলা মামলায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুকে একুশে গ্রেনেড হামলা মামলায় ফাঁসির আদেশ দেয় আদালত। এরপর গত ৫ আগষ্ট সরকার পতন হলে দীর্ঘ ১৭ বছর পর এ মামলায় খালাস পান আব্দুস সালাম পিন্টু। পরে ২৪ ডিসেম্বর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। দীর্ঘ ১৭ বছর পর আজ তিনি টাঙ্গাইলের মাটিতে পা রাখলেন। এ উপলক্ষে আজ তাকে গণসংর্বধনা দেওয়া হয়। এসময় তিনি ১৭ বছর কারাগারে নির্যাতনের বর্ণনা দেন।

সংবর্ধিত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু বলেন, শেখ হাসিনা সরকার আমাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসির আদেশ দিয়েছিল। কারাগারে কি রকম ভয়াবহ নির্যাতন করেছে। আপনারা যারা দেখেন নাই, তারা বুঝবেন না। কি ভয়াবহ নির্যাতন আমাদের উপর করেছে। আমি এমপি ছিলাম মন্ত্রী ছিলাম তারপরেও আমার উপর নির্যাতন চালায়। এমন করে আঘাত করতো যে ডিল মেশিং দিয়ে পায়ের হাঁটু ছিদ্র করে দিতো। আমাদেরকে কনডম সেলে নিয়ে নির্যাতন করা হতো। একটি কথা বলতে চাই অত্যাচারীদেরকে কখনো আল্লাহ ক্ষমা করেননি, শেখ হাসিনাকেও ক্ষমা করবে না।
তিনি আরও বলেন, ‘টাঙ্গাইলে যত হিন্দুদের বাড়ি ছিল, সব আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দখল করেছে। ইদানিং ভারতের মিডিয়া আমাকে নিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে তাই বলতে চাই আমি কখনো হিন্দুদের ক্ষতি করিনি। তাই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে লাভ নেই। আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীর রাজত্ব তৈরি করেছিলো এই দেশকে। কিন্তু জাতীয়তাবাদী দল কখনো সন্ত্রাসীতে বিশ্বাস করে না। শেখ হাসিনা আমাকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছিলো, কখনো কল্পনা করি নাই আবার ফিরে আসবো। আগের সালাম পিন্টু নেই কারণ সালাম পিন্টুকে শেখ হাসিনা মেরে ফেলেছে, আজকের সালাম পিন্টু জিয়াউর রহমানের সালাম পিন্টু, তারেক রহমানের সালাম পিন্টু।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান।
জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহিনের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাঈদ সোহরাব, নির্বাহী সদস্য এস এম ওবায়দুল হক নাসির, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল।
বাসাইলসংবাদ, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ /একেবি
সকলের অবগতির জন্য নিউজটি শেয়ার করুন






